কলকাতা : কাশ্মীর থেকে রাজ্যে ফিরলেন ১৩৩ জন বাঙালি। আজ বিকেলে জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেসে কলকাতা স্টেশনে নামেন তাঁরা। কাশ্মীরে পরিস্থিতি অশান্ত বলে আশঙ্কা করে, রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই শ্রমিকদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের কয়েকজন কর্মীও।

আগত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কাশ্মীরে শেষ কদিন বেশ কিছুটা ভয়েই ছিল তাঁরা। তবে এখন রাজ্যে আসার পর তাঁদের যে ভালো লাগছে, সে কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। রাজ্য সরকারের তরফে আগত যাত্রীদের টিফিন হিসেবে কিছু খাবার তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের বিভিন্ন জেলায় বাড়ি ফেরত পাঠাতে বিশেষ বাসেরও ব্যবস্থা করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে।

জানা গেছে যে ১৩৩ জন শ্রমিক ফিরলেন, তাঁদের মধ্যে ১১২ জন দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা। ৬ জন রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের, ৮ জন রয়েছেন বীরভূমের, মালদহের রয়েছেন ১ জন এবং জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর ২৪ পরগণা থেকে রয়েছে ২ জন করে।

অন্যদিকে, কাশ্মীরে বাঙালি হত্যা ইস্যুতে মিছিল বের করে যুব তৃণমূল। বিড়লা তারামণ্ডল থেকে এই মিছিল শুরু হয়। মিছিল চলবে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত । আগত রাজ্যবাসীকে স্বাগত জানাতে কলকাতা স্টেশনে হাজির ছিলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। এপ্রসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপি দেশকে ভাগ করতে চাইছে।

অন্যদিকে শ্রমিকদের ফেরানোর প্রসঙ্গে আজ সোদপুরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রাজ্যের কী অবস্থা সেদিকে শাসক দলের বিন্দুমাত্র নজর নেই। অথচ কাশ্মীর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার খুবই চিন্তিত’।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরে কাজে গিয়ে মঙ্গলবার প্রাণ হারান ৫ শ্রমিক। নৃশংস ভাবে খুন করা হয় তাঁদের। ভয়াবহ ঘটনার পরে তাঁদের জীবন নিরাপদ নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু একই ভাবে তাঁদের ফেরা নিয়ে অন্য প্রশ্নও ইতিমধ্যে উঠতে শুরু করেছে। যে কাজের খোঁজে, রুটি-রুজির টানে তাঁরা রাজ্য ছেড়েছিল সেই রোজগারের কি হবে তাই ভাবাচ্ছে অনেককে। তবে অন্যদিকে ঘর ফেরত শ্রমিকদের পরিবারে যে আজ রাত থেকেই শান্তির ঘুম নামবে তা বলাই যায়।