সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : অবাঙালিদের পাথরের বা ধাতুর দাঁড়ানো‌ রামের মূর্তি সাধারণত তীর ধনুক সহ যোদ্ধার। কিন্তু বাংলায় রামদরবারে রামের কোথাও কোথাও তীর ধনুক হাতে থাকলেও তাঁর মধ্যে এক অদ্ভুত কমনীয় ভাব লক্ষ্য করা যায়। এখানে রাজারামের যেন এক অদ্ভুত সৌম্য দর্শন। নেই তাঁর রাজা সুলভ কোন পরাক্রমশীলতা বা অহং।

আবার সীতা মায়ের আশিসের ভঙ্গিতেও যেন ভক্ত বাৎসল্যের রূপটিকে তুলে ধরেছেন শিল্পী। তাঁর মধ্যেও কোন রানীর অহং নেই। ইতিহাস বলছে এই রূপ আসলে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব।

শ্রীচৈতন্যদেবের ভক্তির প্লাবনে এই শিল্পীরা ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে এক যোগসূত্র রচনা করেন। আর এটাই দেখা যায় বাংলার রামের মুখে। একটা সময় বাংলার ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে রামায়ণ পাঠ অথবা গ্রামগুলোতে রামযাত্রা ভীষণ প্রচলিত এক দৃশ্য ছিল। গবেষণা থেকে জানা যায় এই রামের পুজো বাংলায় অনেকদিন ছিল।

যারা এই রামের পুজো করতেন তাদের বলা হত রামায়ণ চৈতন্যদেবের ধর্ম আন্দোলনের ফলে এই রাম পুজোর উপর পড়েছিল বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব যদিও বাঙালি বাড়িতে আমরা একই আসনে রাম লক্ষণ সীতাকে খুব কমই দেখা যায় কিন্তু শান্তিপুর, কাটোয়া, নবদ্বীপ এই সমস্ত জায়গায় রামচন্দ্রের বিশেষভাবে পুজো করা হয়। এই রামের আকার-আকৃতি অনেকটাই বৈষ্ণব ধর্ম প্রভাবিত শ্রীচৈতন্য ও নিত্যানন্দের মূর্তির অনুরূপ। এই রামচন্দ্র একান্তভাবেই বাংলার মানসে গড়া।

প্রসঙ্গত, পঞ্চদশ শতকে বাংলার মানুষকে রামায়ণের সঙ্গে পরিচিত করিয়েছিলেন কৃত্তিবাস ওঝা। ফুলিয়া নিবাসী এই মহান কবি তার সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে যে রাম লক্ষণ সীতার উপাখ্যান শুনিয়েছিল তাঁরা দেবতার বদলে বাংলার মানুষের ঘরের লোক হয়ে গিয়েছেন।

বাঙালি তাই বিদেহী আত্মা বা ভূতকে ভয় না পাওয়ার জন্য বিশেষ করে শিশুদের মনে যে ছড়া লুকিয়ে রয়েছে তা ‘ভূত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি , রাম লক্ষণ বুকে আছে ভয়টা আমার কি’। আবার বাংলা প্রবাদও হয়েছে রামায়ণের থেকে। কেউ একটা বিষয় যদি সব শুনে না বোঝে সেখানে বলা হয় ‘সাত কান্ড রামায়ণ শুনে সীতা রামের মাসি’।

তথ্য সৌজন্যে: সোমা মুখোপাধ্যায়, লোকসংস্কৃতি গবেষক

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।