স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২৯ মার্চ ২০১৬ রাজস্থান, এক অল্পবয়স্ক মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল৷ তারপর তার লাশ পাওয়া যায় জলের ট্যাঙ্কিতে৷ ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, জন্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া, ৮ বছর আসিফাকে টানা ধর্ষণ এবং খুন৷

জুলাই ২০১৮- দিব্যা, মন্দাসৌর, মধ্যপ্রদেশ, বয়স ৮ বছর তাকেও ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল৷ শেষ কয়েক বছরে শিশু হত্যায় বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছ দেশ৷ সম্প্রতি সেই ক্ষতকে আরও গভীর করছে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের ছোট মেয়ে টুইঙ্কলের মৃত্যু৷

আরও পড়ুন: ‘বুদ্ধিজীবীদের কি বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়েছে’, বিস্ফোরক রাহুল সিনহা

গত রবিবার জঞ্জালের ভ্যাট থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় এক শিশু কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ ৩০মে থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি৷ রবিবার ওই ভ্যাট থেকে রাস্তার কুকুরগুলি মৃতদেহটি টানতে টানতে রাস্তায় নিয়ে আসে৷ যখন মৃতদেহ উদ্ধার হয় তখন পচে গলে গিয়েছিল৷ হাত-পা ছিল দোমড়ানো-মোচড়ানো৷ ঘটনার নৃশংসতায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন সাধারণ মানুষ৷ অনেকে শিউরে উঠছেন৷ পাশাপাশি রাগে অভিমানে ফুঁসছে সারা দেশে৷ ঘটনার প্রতিবাদে কলম ধরলেন বাংলার কবি-রা৷

টুইঙ্কলের ছবি পোস্ট করে সুবোধ সরকার ফেসবুকে লেখেন,
‘‘মা , তোর মুখের দিকে কী করে তাকাই?
মা , তোর চোখের নীচে এখনো নড়ছে মৃত তারা
মা, তোর মাথার চুল সিন্ধু জলে বেড়ে ওঠা ঘাস
মা, তোর ঠোঁটের নীচে কাল চৈত্রমাস৷
এখনো নড়ছে মৃত তারা
কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের আসল কান্নারা?

আমার তো মেয়ে নেই, মা তুই আমার কোলে আয়
কিন্তু আমি তোর মুখে কি করে তাকাই?
তুই চলে গেলি মা রে, এ পাপ আমারও
আয়ুরেখা,কেন আমি বেঁচে আছি? আমাকেও মারো৷’’

আরও পড়ুন: শিবসেনার কাছে মোদী-শাহ-যোগীই সুপ্রিম কোর্ট : সঞ্জয় রাউত

বাংলার আর এক খ্যাতনাম কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইঙ্কলের মৃত্যুর প্রতিবাদে লিখেছেন,
‘‘অন্তরায় রেখেছ গলা, হৃদয়ে সঞ্চারী
তোমার যন্ত্রণার দাম আমি কি দিতে পারি?
টিভিতে চলে বিশ্বকাপ; খবরে, দ্বিচারিতা
গিয়েছে কাটা খনার জিভ, পাতালে গেছে সীতা
মুক্তি নেই কোথাও, কোনও কন্যাকুমারীতে
জন্ম নাও এদেশে তুমি, মৃত্যু নিতে নিতে৷
# চোখের তারায় টুইংকল’’

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় তার ফেসবুকের দেওয়ালে লিখেছেন,
‘‘আগে অজস্রবার এ লেখা পোস্ট করেছি, ভবিষ্যতে আরও করতে হবে, জানি৷ এর বেশি আমার কিছু করার নেই। এর কমেও না৷ কামড়ানোর সময় পিজ্জা ভাববে৷ ভাববে থিক ক্রাস্ট, ভেতরে নরম অনায়াস চিজ ভরে দেওয়া৷ টেনে ছেঁড়ার সময়ে ভাববে সদ্য উনুন থেকে নামানো তন্দুরি৷ ওপরে হালকা মাখন মাখিয়ে দেওয়া, একপাশে আচার আর পেঁয়াজ রাখাই আছে৷ চিবনোর সময়ে ভাববে চকোবার। বাইরেটা ভঙ্গুর, ভেতরটা গলে যাবে বলে জাস্ট অপেক্ষা করছে৷ মুখে ভরে নিলে ঠোঁটের কোনা দিয়ে আদুরে হয়ে গড়িয়েও পড়তে পারে৷ গেলার সময়ে ভাববে স্কচ। কী আরাম কী আরাম৷ একটু হালকা চিনচিন জ্বালা আর সেই জ্বালার জন্যেই না এতকিছু৷ এইসব ভাববে। ঠিক যেমনটি বলে দিলাম৷ দেখবে, বাচ্চা মেয়েদের ধর্ষণ করে মেরে ফেলতে ভাল লাগবে কীরকম!’’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও