টরোন্টো: করোনা আতঙ্কে ভুগছে সারা বিশ্বের মানুষ। চিনের উহান শহর থেকে ছড়াতে শুরু করে এই মারণ ভাইরাস। কিন্তু চিনের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্য়া ৩,১১,৬৫৮। আর মৃত্যু হয়েছে ৮,৪৯২ জনের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশেই উত্তর আমেরিকার টরোন্টোয় পড়োশানা করছেন কলকাতার যুবক ঋতবান দাস।

টরোন্টো থেকেই সেখানকার অভিজ্ঞতা জানান ঋতবান। তিনি জানাচ্ছেন, রাস্তাঘাট সমস্ত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ওষুধের দোকান ছাড়া আর কিছুই খোলা নেই। তিনি যেখানে থাকেন সেটাকে এখানকার শহরতলি বলা চলে। এখানে এমনিই সব ফাঁকা। কিন্তু টরোন্টোর কেন্দ্রে বা শহরের অবস্থা খুবই খারাপ। জানালেন ঋতবান।

শহরতলিতে থাকার কারণে আতঙ্ক কিছুটা কম। কিন্তু কখন সেখানেও করোনা থাবা বসাবে সেই নিয়েও চিন্তায় আছেন ঋতবান। তিনি বলছেন, টরোন্টোর একেবারে কেন্দ্রের অবস্থা খুবই খারাপ। রোজই বহু মানুষের পজিটিভ কোভিড ১৯ ধরা পড়ছে। ওখানে প্রায় সবকিছুই লকডাউন।

করোনার জেরে বন্ধ হয়েছে কলেজ। তাই গোটা দিন বাড়িতেই কাটছে। জানান কলকাতার বরানগর এলাকার যুবক। ঋতবান, কলেজ বন্ধ। তাই শেষ দু সপ্তাহ অনলাইনে ক্লাস করছি। বাড়ি থেকেই একটা পার্ট টাইম কাজ করছি। খুব দরকার না হলে অর্থাৎ খাবার কিনতেই একমাত্র বেরোচ্ছি। মানুষ খুবই আতঙ্কিত।

ঋতবানের ভাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই থাকেন। ওন্টারিও লেকের উল্টোদিকে নিউইয়র্কে তাঁর ভাই থাকেন। ঋতবান বলছেন, নিউইয়র্কের অবস্থা খুবই খারাপ। বলা যায়, এখানে করোনার ভরকেন্দ্র নিউইয়র্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থাও খুব খারাপ। তবে বলা যায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কানাডার অবস্থা অনেকটাই ভালো।

তবে এসবের মধ্যেও ঋতবানের সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল নিজের দেশ। ঋতবান বলছেন,বাড়ির জন্য চিন্তা হচ্ছে। এটুকুই বলব, সবাই প্লিজ বাড়িতে থাকুন। তা হলেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের মোকাবিলা করা যাবে। আমার জুলাইতে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জানি না কবে পরিস্থিতি ঠিক হবে। আশা করি সব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হবে।