কলকাতা: বিতর্কটা শুরু করেছিলেন নিজেই। এবার নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মেঘালয়ের গভর্নর তথাগত রায়।

কয়েকদিন আগে তিনি কয়েকটি ট্যুইট করেছিলেন, যার সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, বাঙালি মেয়েরা আজকাল মুম্বইতে ডান্স বারেও নাচে। তাহলে, বাঙালির হিন্দি শিখতে আপত্তি কোথায়। স্বাভাবিকভাবেই শিরোনামে চলে আসেন তথাগত। এবার ফের ট্যুইটারেই তাঁর সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।

রাজ্যে পাচারচক্র বাড়ছে, তারই শিকার হচ্ছে মেয়েরা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত প্রশ্ন তুলে দিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মোদী সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর স্কুলের সিলেবাসে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার যে চিন্তাভাবনা করেছিল, তা নিয়ে বিরোধ উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন ভাষাভাষীর দেশ ভারতে হিন্দি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেকেই। বিশেষত দক্ষিণের রাজ্যগুলি ও পশ্চিমবঙ্গে সুর চড়েছে হিন্দির বিরুদ্ধে।

হিন্দি কেন বাধ্যতামূলক করা উচিৎ, তা বোঝাতে ট্যুইটে বিভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন তথাগত। বলেছেন, ”এই মনীষীদের কাল বহুদিন গত, তারপর বাংলার বৃহদংশও গত, এখন বাঙালি ছেলেরা হরিয়ানা থেকে কেরালা পর্যন্ত সব জায়গায় ঘর ঝাঁট দেয়, বাঙালি মেয়েরা মুম্বইতে বার-ডান্স করে, যা আগে অকল্পনীয় ছিল।” অর্থাৎ তাঁর যুক্তি, বাঙালি মেয়েরা মুম্বইতে বার-ডান্স করলে হিন্দি শিখতেও বাঙালিদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এই মন্তব্য টেনে এনে এবার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন,”যাঁরা এই মন্তব্যে ‘ব্যথিত’, তাঁদের জন্য জানাচ্ছি, Human Trafficking (প্রায় পুরোপুরি নারী ও শিশু পাচার) বাবদে পশ্চিমবঙ্গ ভারতে সর্বপ্রথম | সূত্র 2016 Crime in India Report published by National Crime Records Bureau (NCRB), Government of India.”

তাঁর দাবি, ভারতের চুয়াল্লিশ শতাংশ পাচার পশ্চিমবঙ্গ থেকেই হয়।

এর আগে তথাগত বলেছিলেন, ‘তামিলনাড়ু বাদে ভারতের সব জায়গার লোক মোটামুটি হিন্দি বোঝে। অপরপক্ষে শহুরে বুদ্ধিজীবী শ্রেণী ছাড়া ইংরিজি কেউ বুঝবে না। যাঁরা ঠিক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এক পাও বেরুবেন না, তাঁরা ছাড়া বাকিদের বর্তমানকে, বাস্তবকে মেনে নিতে হলে হিন্দি শিখতে হবে। না হলে পস্তাতে হবে।’

তিনি এও জানিয়েছেন, দক্ষিণী রাজ্যগুলো হিন্দির বিরোধিতা করছে ঠিকই, তবে তামিলনাড়ু ছাড়া বাকি দক্ষিণী রাজ্যগুলোর হিন্দির প্রতি কোনও সিরিয়াস বিরোধিতা নেই। এমনকি অসম, ওডিশা, মহারাষ্ট্রও অ-হিন্দিভাষী রাজ্য, হলেও তারা হিন্দির বিশেষ বিরোধিতা করছে না বলে দাবি করেছেন তিনি।

আসলে, অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে স্থানীয় ভাষা, ইংরেজির সঙ্গে হিন্দি শিখতে হবে। হিন্দিভাষী রাজ্যে হিন্দি, ইংরেজির সঙ্গে অন্য কোনও ভারতীয় ভাষা শেখার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় সরকারের কমিটি। এই প্রস্তাব আদতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা বলে অনেকের মত৷

নতুন শিক্ষানীতির এই খসড়ার কথা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তপ্ত হয়েছে দক্ষিণ ভারত। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী ও কেরলের কংগ্রেস এমপি শশী থারুর হুমকি দিয়ে বলেছেন, কোনও শক্তি যদি আমাদের ওপরে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিতে চায়, ফল ভালো হবে না। ডিএমকে প্রধান স্টালিন বলেছেন, ‘হিন্দি আমাদের রক্তে নেই।’রাজ্যেও সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দি আগ্রাসনের প্রতিবাদ শুরু হয়।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রবিবার টুইট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। নতুন যে শিক্ষানীতির কথা বলা হচ্ছে, তা খসড়া রিপোর্ট মাত্র। সরকারের সিদ্ধান্ত নয়।

এরপরই হয় সিদ্ধান্ত বদল। কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতির নতুন খসড়া পেশ করেছেন ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির চেয়ারম্যান তথা ইসরোর প্রাক্তন প্রধান ডঃ কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন। খসড়া প্রস্তাবে বলা সেই হয়েছে, ১৯৬৮ থেকেই বহু স্কুলে ‘থ্রি ল্যাঙ্গুয়েজ ফরমুলা’ চলে আসছে। তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।