লন্ডন: মহানায়ক উত্তম কুমারকে নিয়ে বাঙালির আবেগের শেষ নেই। তাই বিদেশের মাটিতে থেকেও নস্টালজিক বাঙালি বার বার সেই আবেগে জাবর কাটে। প্রবাসী বাঙালি ডিজাইনার রোশনি মুখোপাধ্য়ায়ও ব্যতিক্রমী নন। সুদূর লন্ডনে উত্তম কুমারের স্মৃতি রোমন্থন করতে এক বিশেষ নজির গড়লেন তিনি।

গত ২৩ নভেম্বর লন্ডনের ভারতীয় বিদ্যা ভবন প্রেক্ষাগৃহে স্থানীয় বাঙালি ব্যান্ড ইস্টার্ন ইউফোনির তরফে অনুষ্ঠিত হলো উত্তমকুমার স্মরণে সঙ্গীতানুষ্ঠান‘মহানায়ক’। অনুষ্ঠানে ছিল উত্তমকুমার অভিনীত ছবির গান, সঙ্গে অডিও-ভিজ়ুয়াল উপস্থাপনা। পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে উত্তম নস্টালজিয়ায় ডুব দিলেন প্রবাসী বাঙালিরা। আর এই অনুষ্ঠানেই চমক দিলেন ডিজাইনার রোশনি মুখোপাধ্যায়।

তাঁর জনপ্রিয় ডিজাইনার বুটিক মিয়োসূত্রর তরফে উপস্থাপনা করলেন “ঢাকাই বেনারসি” শাড়ির। মহানায়কের ‘জলসাঘর’ ছবির থিমকে মাথায় রেখেই রোশনির এই অভিনব উদ্যোগ। বাংলাদেশের ঢাকাই জামদানি আর বেনারসের বেনারসির এক অসাধারণ সংমিশ্রনে তৈরি এই “ঢাকাই বেনারসি”। ভারতীয় বিদ্যা ভবনের ওই অনুষ্ঠানের সমস্ত শিল্পীরা পড়েছিলেন রোশনির এই “ঢাকাই বেনারসি”।

কয়েক বছর আগেও ব্রিটেনের মাটিতে বসবাসকারী প্রবাসী মহিলাদের কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিল না। বাংলা ও বাঙালির শিল্প-শৈলীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে শাড়ি বা জামাকাপড়ের দোকান এই দেশে প্রায় ছিল না বললেই চলে। লন্ডন, বার্মিংহাম কিংবা ম্যানচেস্টার-এর হাই-স্ট্রিট ভারতীয় পোশাক বিপনীতে দামও ছিল আকাশ ছোঁয়া। ঠিক এই ফাঁকটাই পূরণ করলেন রোশনি। শুরু করলেন বাংলার বয়ন শিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস।

২০১৭-য় রোশনি লন্ডনে শুরু করলেন তাঁর সিগনেচার বুটিক মিয়োসূত্র। প্রতিটা উৎসবের মরশুম ছাড়াও রোজকার জন্মদিন, কিটি পার্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে শাড়ি পড়ার প্রচলনটা প্রবাসিনীদের মধ্যে আবার শুরু করার ক্ষেত্রে রোশনির ভূমিকা নি:সন্দেহে উল্লেখযোগ্য। মিয়োসূত্রর শাড়ি, ব্লাউজ, কুর্তা আর জাঙ্ক জুয়েলারি আজ পৌঁছে গেছে গোটা ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে। সাধারণ তাঁতিদের থেকে সরাসরি পোশাক আনার কাজ শুরু করেন রোশনি। তাঁর মতে, “আমার বরাবরই মনে হতো বাংলার তাঁত শিল্পীদের বিদেশের মাটিতে ভীষণ চাহিদা। কিন্তু তাঁরা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছনোর রাস্তাটা জানেন না। আমরা যারা বিদেশে আছি, আমাদের শাড়ি বা দেশি জামাকাপড় কেনার সুযোগ ভীষণই কম। দেশে গেলে অনেকে কিনে আনেন তাও কতটা আনবেন! প্লেনে তো ওজনের একটা ব্যাপার আছে। আর উৎসবে কিংবা কোনও অনুষ্ঠানে এক শাড়ি আর ক’বার পড়া যায়! এই সব ভেবেই আমার মিয়োসূত্রর জন্ম। সবার ভালোবাসায় মাত্র দু’বছরে আমার শাড়ি, কুর্তা, গয়না এখন গ্লাসগো থেকে সাউথাম্পটন, সব জায়গার বাঙালি রমনীদের ঘরে পৌঁছে গেছে।”