সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : মাঠে ফুল ফোটাচ্ছে মোহনবাগান। খুশিতে ডগমগ সমর্থকরা। আর কিছুদিনের অপেক্ষা বাগানে আবারও ফুটবে আইলিগ জয়ের ফুল। বাগানে আইলিগ জয়ের বসন্তের আগে জীবনে বসন্ত নিয়ে এসে এক নয়া সমাজের প্রতি নয়া বার্তা দিলেন মোহনবাগান সমর্থক। ঘরণী করলেন অ্যাসিড আক্রান্তকে।

দমদমের ছেলে শুভ্র দে। ডাই হার্ড মোহনবাগান সমর্থক। এমনিতেই আনন্দে আছেন দলের দুরন্ত পারফর্মেন্সে। তার মাঝেই ঠিক করে নিয়েছেন নিজের জীবন সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘোড় বাঁধার দিনক্ষণ। কিন্তু তিনি এমন মেয়ের সঙ্গে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা সহজ কথা নয়। দমদমেরই মেয়ে অ্যাসিড আক্রান্ত সঞ্চয়িতা যাদবকে ভালোবেসে জীবনের অঙ্গ করে তুলেছে সে। মঙ্গলবার চার হাত এক হয়েছে। এবার আগামী জীবন আরও সুখের হয়ে ওঠার পালা

শুভ্রর সাফ কথা, ‘আমি ভালবাসি আমার মা মোহনবাগান কে। মোহনবাগান আমার জীবন আমার হার্ট। আর আমার ভালবাসা সঞ্চ আমার জীবন।’ সঞ্চয়িতাকে যে তিনি কতটা ভালোবাসেন তার এক কথাতেই স্পষ্ট। এই বিয়েতে বড় ভূমিকা রয়েছে শুভ্রর মা-বাবারই। কারণ সঞ্চয়িতার বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন। গত বছর মা’ও মারা যান। ক্রমে একা হয়ে পড়ছিলেন তিনি। এমন সময়েই শুভ্রর বাড়িতে তাদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে যায়। পুরোটা জেনে নিজেরাই এই দায়িত্ব নেন ছেলের বিয়ে দেওয়ার। এবং বসন্তের শুভ দিনে সম্পন্ন হয়েছে বিবাহ।

প্রসঙ্গত সঞ্চয়িতার জীবন অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। সৌমেন সাহা, সঞ্চয়িতার প্রাক্তন প্রেমিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বদলা নিতে মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মেরেছিল। এমন বিপদের সময়ে সঞ্চয়িতার পাশে দাঁড়িয়েছিল মোহনবাগান সমর্থক শুভ্র দে। বারবার ছুটে গিয়েছিলেন আরজি কর হাসপাতালে।

সেই সঙ্গে প্রত্যেকদিন বাঁচার সাহস জুগিয়েছেন। হাসপাতালে যাতায়াতের খরচ বাঁচাতে সাইকেলে করে যাতায়াত করতেন। মুখে সাতটা অস্ত্রোপচার হয়েছে। অপারেশন হওয়ার পর একটা চোখ পাথরের হয়েছে। প্রত্যেকটি সেলাইয়ের সঙ্গে ভালোবাসা যোগসূত্রটা আরও দৃঢ় হয়েছে শুভ্রর সঙ্গে সঞ্চয়িতার। এখন আরও ভালো বাসা গড়ার অপেক্ষা।

আমাদেরই রাজ্যের আরও অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণী মনীষা পৈলান সঞ্চয়িতার বান্ধবী। তিনি দারুন খুশি বান্ধবীর নতুন জীবন শুরু হওয়ায়। সেও বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছে শুভ্রকে। সোশ্যাল মাধ্যমে সে লিখেছে , ‘বন্ধু সঞ্চয়িতা আজ নতুন জীবনে পা রাখলো , যে মানুষটা তাকে সারাটা ক্ষণ বটগাছের ছায়ার মত আগলে রাখে , তাদের আজ সামাজিক ভাবে চারহাত এক হল। পথটা কিন্তু সোজা ছিল না তবে সঞ্চয়িতাদের আটকে রাখে কে?

নতুন জীবনের অনেক শুভেচ্ছা প্রিয় সঞ্চয়িতা ও শুভ্র দা।’ শুভ্রকে উদ্দেশ্য করে সে আরও লিখেছে , ‘দাদা তোমাকে অনেক শ্রদ্ধা যেভাবে ওর প্রতিটা পদক্ষেপ তুমি নিজের করে লড়াই করে গেছ। এটি শুধু একটি বিয়ে না, এটি একটি বড় থাপ্পড় ওই ছেলেগুলোর মুখে যারা সঞ্চয়িতাদের থামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল কিংবা যারা মনে করে মুখ ঝলসালেই সব শেষ …’