আমেদাবাদ: প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি দল হিসেবে কলকাতার মুকুটে জুড়ল নয়া পালক। ক্রিকেট-ফুটবলে শিরোপা জয়ের পর অপেক্ষা ছিল কেবল কবাডির। শনিবার শহরবাসীর সেই স্বপ্নও পূরণ করল মনিন্দর সিং অ্যান্ড কোম্পানি। দাবাং দিল্লিকে হারিয়ে প্রথমবার প্রো-কবাডি লিগের খেতাব ঘরে তুলল বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। কলকাতাকেন্দ্রিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটির পক্ষে শনিবার মেগা ফাইনালের ফল ৩৯-৩৪।

লিগ পর্যায়ে দিল্লির চেয়ে দু’পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়স্থানে শেষ করেছিল কলকাতার দলটি। টুর্নামেন্টের সপ্তম সংস্করণের ফাইনালে সেই দিল্লির দলকে হারিয়েই প্রথবার শিরোপা ছিনিয়ে নিলেন বঙ্গযোদ্ধারা। ফাইনালে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের জয়ের নায়ক যদিও সুদূর ইরান থেকে আগত আলি নবি বক্স। মেগা ফাইনালে ম্যাটে এদিন রাজ করেন এই ইরানিয়ান। ১৩ বার রেইডে গিয়ে ছিনিয়ে আনেন ৯টি মূল্যবান পয়েন্ট। শুরুতে এদিন আট পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ওয়ারিয়র্সদের কোণঠাসা করে দেয় দাবাং দিল্লি। সেখান থেকে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে কলকাতার দলটি।

চলতি মরশুমে দলের হয়ে ২০৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করা অধিনায়ক মনিন্দর সিং এদিন ছিলেন না ফাইনালে। পরিবর্ত অধিনায়ক হিসেবে আলি নবি বক্স অভাব বুঝতে দেননি কোনওভাবেই। প্রাথমিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে পড়া বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স ইরানিয়ানের কাঁধে ভর করেই বিরতিতে খেলায় সমতা (১৭-১৭) ফেরে। দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্স সামলে ঝোড়ো আক্রমণে যান বঙ্গযোদ্ধারা। ওয়ারিয়র্সদের আক্রমণের সামনে বেশ অসহায় দেখায় দিল্লি ডিফেন্সকে। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকলেও ম্যাচের শেষদিকে জ্বলে ওঠেন দিল্লির নবীন কুমার। যদিও বছর কুড়ির নবীনের র‍্যাপিড পেস শেষরক্ষা করতে পারেনি দিল্লি দাবাংয়ের। দুরন্ত কামব্যাকের নিদর্শন রেখে প্রথমবার খেতাব জয় নিশ্চিত করে ফেলে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স।

উল্লেখ্য প্রথমবার খেতাব জয়ের লক্ষ্যে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু বুলসের কোচ বিসি রমেশকে কোচ হিসেবে এবার উড়িয়ে এনেছিল কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি। টানা দ্বিতীয়বার খেতাব জয়ের পর ওয়ারিয়র্সদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রমেশ। তিনি বলেন, ‘এই জয় ছেলেদের শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল।’ মেগা ফাইনাল চাক্ষুষ করতে এদিন আমেদাবাদে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরণ রিজিজু।