অভিষেক কোলে: প্রথম দিনের শেষে মনোজ তিওয়ারির প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি ছিল, দ্বিতীয় দিন সকালে শামি-দিন্দারা দেখে নেবেন কেরল ব্যাটসম্যানদের। শামির জন্য বোর্ডের বেঁধে দেওয়া ১৫ ওভারের কোটা বাড়তি দু-চার ওভার ছাড়িয়ে প্রায় ত্রিশের কোঠা ছোঁয়ার উপক্রম করলেও কেরলের ব্যাটিং লাইনআপকে বিব্রত করা গেল কই! একা জলজ সাক্সেনা ঢাল হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় শামি-দিন্দাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা ফিকে হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নিজেদের ডেরায় দেড়শোর আগেই শেষ বাংলা

প্রথম ইনিংসে বাংলার দলগত সংগ্রহ সাকুল্যে ১৪৭। জলজ একাই ১৪৩ রান করে কেরলকে বড়সড় লিডের পথে ঠেলে দেন। অবশ্য দিনের শুরুতে দিন্দার সঙ্গে জুটি মিলিত আক্রমণে শামিই বাংলাকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন জোগান। আগের দিন নিজের প্রথম ওভারেই অরুন কার্তিককে (১) ফিরিয়ে শামি বাংলাকে প্রাথমিক সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিন সকালে রোহন প্রেমকে (১৮) আউট করেন দিন্দা। শামি ফিরিয়ে দেন সঞ্জু স্যামসন (০) ও সচিন বাবিকে (২৩)।

আরও পড়ুন: ইডেনের সতেজ পিচে আগুন ঝরানোর অপেক্ষায় শামি

দিনের প্রথম সেশনেই সলমন নিজারকে (৫) ফিরিয়ে দেন মুকেশ কুমার। অবশ্য লাঞ্চেই বাংলার ইনিংসকে টপকে যায় কেরল। জগদীশকে সঙ্গে নিয়ে জলজ বাংলার আশায় জল ঢেলে দেন। ষষ্ঠ উইকেটে দু’জনে মিলে ১১৯ রান যোগ করেন। শেষে জগদীশ, জলজ, বাসিল থাম্পি ও নিধীশকে আউট করেন ইশান পোড়েল।

আরও পড়ুন: ম্যাচে ব্যাকফুটে হলেও শরীরি ভাষায় আগ্রাসী মনোজরা

জগদীশ ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। শতরানের লড়াকু ইনিংস খেলার পথে জলজ উপহার দেন ২১টি চার প ২টি ছক্কা। থাম্পি ও নিধীশের যোগদান ৪ রান করে। শেষে ওয়ারিয়রকে (২) বোল্ড করে কেরল ইনিংসে দাঁড়ি টেনে দেন দিন্দা। যদিও কেরল ততক্ষণে প্রথম ইনিংসের নিরীখে ১৪৪ রানের লিড নিয়ে নিয়েছে। অক্ষয় চন্দ্রন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। ফার্স্ট ইনিংসে কেরল অলআউট হয় ২৯১ রানে।

আরও পড়ুন: ড্রেসিংরুমে মনোজদের ‘পেপটক’ দিলেন মহারাজ

শামি ২৬ ওভার বল করে ১০০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন। সকালে ইশানের প্রথম স্পেল বিভীষিকার মতো দেখালেও দিনের শেষে ৬৯ রানের বিমিময়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। দিন্দা ৪১ রানে ২টি ও মুকেশ কুমার ৪৫ রানে ১টি উইকেট পকেটে পোরেন। দিনের শেষ বেলায় ব্যাট করতে নেমে কৌশিক ঘোষের (১) উইকেট হারিয়ে বাংলা দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ রান তুলেছে। পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে, তাতে হার বাঁচানোটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ মনোজদের।