কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) দুটি শিক্ষক সংগঠন এবার মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতির (blended teaching methods) বিরোধিতায় সরব হল। ইউনিভার্সিটি গ্রন্টস কমিশন (University Grants Commission) বা ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে তারা জানিয়েছে যে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অনলাইনে শিক্ষা এবং নিত্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন এবং তাঁর পাশাপাশি শারীরিক ভাবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরিকাঠামো উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন (JUTA) মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়ায় ইউজিসিকে জানিয়েছে যে হাই স্পিড ইন্টারনেট, ডিজিটাল ডিভাইস, এখনও সবার কাছে সহজলভ্য নয়। ভৌগলিক ভাবে সব কলেজ গুলির ৬০ শতাংশ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ৪০ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ইন্টারনেট কানেকশন যথার্থ ভাবে মেলে না তাছাড়া অনেক ছাত্র ছাত্রী ডিজিটাল মাধ্যম গুলো ব্যবহার করতেও সরগর নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন (JUTA) র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের মতে এই পরিস্থিতিতে তাই মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতি চালু করা উচিত নয়। কারণ JUTA মনে করে এই সিদ্ধান্ত অবৈজ্ঞানিক,ভুল এবং অগণতান্ত্রিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর শিক্ষক সংগঠন অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (All bengal University Teachers Association) বা ABUTA মনে করছে যে শিক্ষকদের থেকে মিশ্র শিক্ষক পদ্ধতি নিয়ে মতামত চাওয়া জনসাধারণকে ভুল পথে চালিত করার একটি প্রয়াস। কারণ ইতিমধ্যেই ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় গুলির উপাচার্যদের এই বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। দুটি শিক্ষক সংগঠনের মতে এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় গুলির স্বাধিকারের প্রতি হস্তক্ষেপ।

উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে খুব শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা ছিল মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতি (Blended teaching)। এমনটাই জানা গিয়েছিল দেশের উচ্চ শিক্ষা নিয়ামক সংস্থা ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস্ কমিশন বা ইউজিসি (UGC) সূত্রে। এই মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতি বা ব্লেনডেড টিচিং এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট কিছু অংশের ক্লাস হবে অনলাইন মাধ্যেমে বাকি নির্দিষ্ট অংশের ক্লাস হবে প্রথাগত ক্লাস রুমে। খুব শীঘ্রই দেশের কলেজ (College) বিশ্ববিদ্যালয় (University) গুলিতে এই মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসারে কোর্সের (course) ৪০ শতাংশ কাজ হবে অনলাইন মাধ্যমে এবং বাকি অংশ হবে ক্লাসরুমে।

ইতিমধ্যেই All India Federation of University and College Teacher’s Organization (AIFUCTO) সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইউজিসির মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতির (Blended mode of teaching and learning) বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে এই পদ্ধতি সঠিক নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলির স্বশাসনের (Autonomous) অধিকারের বিরোধী। AIFUCTO ইউজিসির কাছে এই পদক্ষেপ খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অংশীদার সকলের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.