পূর্ব বর্ধমান: খুন আর ধর্ষণ ছিল তাঁর নেশা। অপরাধ জগতের এক নতুন মুখ হয়ে উঠেছিল কামরুজ্জামান সরকার। গলায় শিকল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করত। তাই অপরাধ জগতে কামরুজ্জামান চেনম্যান বলে পরিচিত সে। ৬ টিরও বেশি খুন সহ ধর্ষণের মামলা তাঁর নামে। এই কুখ্যাত কামরুজ্জামানকে ফাঁসির সাজা শোনাল কালনা জেলা আদালত।

পুলিশি জেরায় সব কথা কবুল করেছে অপরাধী। সে জানিয়েছে, ২০১৩ সালের পয়লা জানুয়ারি সে প্রথম খুন করে। এরপর ২০১৩ সালেই আরও ২ টি খুন করে চেন্নাই পালায় সে। সেখানে মাস তিনেক গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর ফের আসে বাংলায়।

২০১৩-১৯ এই সময় কালে বর্ধমান ও হুগলিতে একের পর এক নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই ধরা পড়েছে খুনীর নৃশংসতা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈশিষ্ট্য একটাই। গলায় চেন পেঁচিয়ে নৃশংস ভাবে খুন, কোথাও আবার ধর্ষণও করা হয় মহিলাকে।

৪৩ বছরের এই খুনী নৃশংসতার চরম সীমা অতিক্রম করে কালনার সিঙ্গারকোণ গ্রামে। সেখানে এক নাবালিকার একা থাকার সুযোগ নিয়ে চুপিসারে সেই বাড়িতে ঢোকে কামরুজ্জামান সরকার। প্রথমে ধর্ষণ করতে গিয়ে বাধা পেয়ে ছাত্রীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর চেন পেঁচিয়ে খুন করা হয় তাঁকে।

সোমবার অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন এবং আর্থিক জরিমানা সহ মোট ৪ টি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারপতি। অপরাধীর ফাঁসির সাজা হয়েছে শুনে আশ্বস্ত মৃতার মা। তিনি জানান, ‘‘আমার মেয়ে কোনও অপরাধ করেনি। অথচ, কী নিষ্ঠুর ভাবে খুন হল! ওর (কামরুজ্জামান) ফাঁসিই চেয়েছিলাম। অনেক দিন পরে একটু শান্তিতে ঘুমোতে পারব।’’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ