স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অনেকদিন ধরেই তৃণমূলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কংগ্রেসের ঠিক কী অবস্থান তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল৷ কারণ একটাই৷ বঙ্গ কংগ্রেস যখন মমতার তীব্র বিরোধীতা করছে তখনই মমতাকে পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ যা প্রদেশ নেতাদেরও অসন্তোষ বাড়াচ্ছে৷সেই অসন্তোষকে এদিন কার্যত উস্কে দিলেন মোদী৷ কিন্তু প্রদেশ নেতৃত্ব মোদীর পাতা ফাঁদে পা দিল না৷ বরং উল্টে মোদীর অস্ত্রেই মোদীকে আক্রমণ করল৷

রাজ্যের চা-বলয় দাঁড়িয়ে শুক্রবার প্রদেশ কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷তিনি বলেছেন, প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা বলছেন এরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে অথচ দিল্লির নেতারা দিদির হাত ধরছেন৷মোদীর এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিল প্রদেশ কংগ্রেস৷ তাদের বক্তব্য, কংগ্রেসকে ভাগ করার বৃথা চেষ্টা করছেন মোদী৷

কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ভারতের কংগ্রেসের ঘরের কথা বলছেন৷ এটা ওনার এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে না৷রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে সেটা ঠিকই৷ কিন্তু রাজ্য আর দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষন করা এক নয়৷ তাঁর দেশ শাসনে যে বড় গাফিলতি ধরা পড়ছে সেটা রাহুল গান্ধী তুলে ধরছেন৷ যদি তৃণমূলও সেটা তুলে ধরে তাহলে দুদলের মধ্যে সমতা আসবেই৷ তার মানে এটা নয় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কথা বলতে পারব না৷ সেক্ষেত্রে দলের হাইকম্যান্ডের প্রদেশের চিন্তাধারার সঙ্গে যদি কোনও ফারাকও হয় তাহলে সেটা রাজনীতির একটা অংশ৷

সেইসঙ্গে দলের বর্ষীয়ান নেতা বলেন, কংগ্রেস সম্পর্কে বিষোদগার করা ছাড়া এখন ওনার কোনও কাজ নেই৷ তিনি কংগ্রেসকে ভাগ করতে চাইছেন৷ বিরোধ তৈরি করতে চাইছেন৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় কংগ্রেস ও প্রদেশ কংগ্রেসকে এভাবে ভাগ করতে পারবেন না৷ প্রদেশ দিল্লিরই অংশ৷

প্রদেশের আরও এক নেতা শুভঙ্কর সরকারের কথায়, সারা ভারতের অর্থনীতি, বিদেশনীতি ভেঙে পড়েছে৷ দেশের সংবিধান সঙ্কটে৷ শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এব্যাপারে যে রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে সেখানে তার পাশেই রাহুল গান্ধী থাকবেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেডের জনসভায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছে৷ আর এরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা কী বলব সেই জ্ঞান দাঙ্গাবাজ বিজেপির থেকে নেব না৷ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে লড়াই করছি সেভাবেই করব৷

শুধু মোদী নন, এর আগেও বিজেপির একাধিক নেতা কংগ্রেসের এক যাত্রায় পৃথক সিদ্ধান্তকে খোঁচা দিয়েছেন৷ সদ্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই হামলার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় বসাকে যখন রাহুল গান্ধী সমর্থন জানালেন তখনই কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছিলেন রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা৷ তাঁরা রাহুল গান্ধীকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর দলের অধীর চৌধুরীরাই এই চিটফান্ড নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন৷

তবে কংগ্রেসের বিশ্বাস এবার দিল্লির মসনদ তারাই দখল করবে৷ রাহুল গান্ধীই হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী৷ তাই পারিবারিক মনোমালিন্যকে কোনওভাবেই বিজেপির হাতে অস্ত্র হিসেবে তুলে দিচ্ছে না তারা৷ আপাতত ভোট বৈতরনী পেরোতে চাইছে৷