কলকাতা: COVID-19 টেস্টের জন্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ ত্রুটিপূর্ণ কিট পাঠিয়েছে, যা নিষ্পত্তিহীন তথ্য দিচ্ছে না ফলে করোনা পরীক্ষার গতি শ্লথ হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

রবিবার একটি ট্যুইটে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের তরফে আইসিএমআরকে এক্ষুনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নিশ্চিত ফলাফল পেতে পুনরায় পরীক্ষার ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে যা করোনা মওকাবিলায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত ৩১০ করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে এবং ১২ জন মৃত। শেষ তিনদিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে একলাফে অনেকটা।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের তরফে কোনও উত্তর এখনও আসেনি। কলকাতায় কাউন্সিলের নোডাল বডির ডিরেক্টর বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

কলকাতার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কলেরা এবং এনটেরিক ডিসিজের ডিরেক্টর, ডঃ শান্তা দত্ত জানিয়েছেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে কিটগুলি যথাযথ তথ্য দিচ্ছে না। সব মেডিক্যাল কলেজের পক্ষে স্ট্যান্ডারডাইজড করা সম্ভব না, তাই কিটগুলিতে নির্দিষ্ট ফলাফল আসছে না”।

শুরুর দিকে, ন্যশনাল ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজিতে কিট স্ট্যান্ডারডাইজডের কাজ হচ্ছিল। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইসিএমআর রেডিমেড কিট পাঠাতে শুরু করেছে। প্রথমে ২৬টি ডিপোতে যাচ্ছে সেখান থেকে ল্যাবরেটরিতে পৌঁছে যাচ্ছে।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কলেরা এবং এনটেরিক ডিসিজ সেইরকমই একটি ডিপো যেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওডিশা, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপেও টেস্টিং কিট যাচ্ছে।

রবিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের তরফে একটি ট্যুইটে লেখা হয়েছে, “আগে যখন NIV থেকে সরাসরি কিট আসছিল কোনও সমস্যা হচ্ছিল না তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফের ল্যাবরেটরি থেকে আইসিএমআর-NICED এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে আসছে”।

আরও বলা হয়েছে, “একাধারে গলদমুক্ত কিট পাঠানো হচ্ছে না। একই ঘটনা দুবার পরীক্ষার জন্য দেরি হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা মোকাবিলায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন”।

প্রয়োজনের তুলনায় রাজ্যে কিটের সংখ্যা কম। তাই আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে রাজ্যে পুল স্যাম্পেল টেস্টের সিদ্ধান্তে নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাস পরিক্ষায় সাফল্য পেয়েছে কেরল।

গত ১৩ এপ্রিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ এই পুল স্যাম্পেল টেস্ট নিয়ে গাইডলাইন দিয়েছিল। টেস্টিং কিট কম থাকলেও এই পদ্ধতিতে দেশের অধিকাংশ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছিল তারা। এতে খরচও অনেক বাঁচবে বলে মনে করছে আইসিএমআর। পুল স্যাম্পেল টেস্ট চালুর বিষয়টি শনিবার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের হার কম বা এখনও পর্যন্ত একজনও আক্রান্তের খবর মেলেনি, এমন এলাকায় উপসর্গবিহীন সর্বোচ্চ পাঁচ জনের সোয়াবের নমুনা এক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার কথা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV