কলকাতা: নয়া বিদ্যুৎ বিলে প্রস্তাব রাখা হয়েছে বিদ্যুতের মাশুলের ক্ষেত্রে আর কোনও পৃথকীকরণ থাকবে না। কে কতটা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তার উপর ভিত্তি করে মাসুল নির্ধারণ করা হবে না।‌ পাশাপাশি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পারস্পরিক ভর্তুকির ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। এই সব নানা কারণে নয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বাংলায়।

এই করোনা সংকটের পরিস্থিতিতেই কেন্দ্র উদ্যোগী হয়েছে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারে। ফলে বিদ্যুৎ সংশোধন বিল ২০২০ আনতে চলেছে কেন্দ্র। আর এই পদক্ষেপের ফলের বিদ্যুৎ পরিষেবায় ‌ বেসরকারিকরণ এবং রাজ্য সরকারগুলির অধিকার কমবে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠনগুলি। তার ফলে ইতিমধ্যেই কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গিয়েছে।

এই বিলে শুধু বেসরকারিকরণ বা মাসুলে ভর্তুকি ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি। বিভিন্ন কর্মী ইউনিয়নের আশঙ্কা, যেভাবে প্রিপেইড মিটার চালু করার কথা বলা হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে মিটার রিডিং এর প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তাহলে, যারা এই কাজ করে থাকেন তাদের চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে এই বিদ্যুৎ বিলটির বিরোধিতা করে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, লক ডাউনের সময় কেন্দ্র শ্রম আইন সংশোধনের পরে এবার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংশোধনে নেমে পড়েছে। পাশাপাশি তিনি রাজ্য কে সতর্ক করেছেন, নয়া বিলের ফলে বিদ্যুত নিয়ন্ত্রণ কমিশনের উপর রাজ্যের কোন হাত থাকবে না। এটা এক ধরনের রাজ্যের ক্ষমতার উপর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ । তাই এই বিলের বিরোধিতা করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।

রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেও এই বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যকে একেবারে অন্ধকারে রেখে এই বিল আনা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেন্দ্র এই বিল আনলেও সেটা রাজ্য আদৌ কার্যকর করবে কি না তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV