নয়াদিল্লি: সব কিছু ঠিকঠাক চললে শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলের সম্ভাবনা। আর তা হলে শিকে ছিঁড়তে পারে বাংলার। এরাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন আরও দুই থেকে তিনজন বিজেপি সাংসদ।

সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরেই দ্বিতীয় মোদী মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদল হতে পারে। সূত্রের খবর, বাংলা থেকে আরও দুই থেকে তিনজন বিজেপি সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। এরাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত এবং বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর।

পাখির চোখ ২০২১-এর বিধানসভা ভোট। তার আগে বাংলায় বিশেষ নজর বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের। সংগঠন সাজানোর পাশাপাশি এরাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন মোদী-শাহরা। বাংলাক দখলের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে ঝাঁপিয়েছে গেরুয়া শিবির। একের পর এক কেন্দ্রী নেতা-মন্ত্রী বাংলায় আসছেন। রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি জেলা-সফরেও যাচ্ছেন। ছোট-ছোট সভা করে নীচুস্তরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করছেন। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় ক্রমেই সুর চড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য প্রশাসন-বিরোধী প্রচার আরও জোরদার করতে চেষ্টার কোনও কসুর রাখতে চাইছে না পদ্ম শিবির।

মোদী মন্ত্রিসভায় বাংলা থেকে এখন দু’জন মন্ত্রী রয়েছেন। বাবুল সুপ্রিয়র পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রয়েছেন রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। সেই তালিকা এবার আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে এরাজ্য থেকে স্থান পেতে পারেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পছন্দের লোক হিসেবেই পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত। তবে তাঁকে কোন দফতর দেওয়া হতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ তথা পেশায় চিকিৎসক সুভাষ সরকার। বরাবরই সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিজেপির এই দীর্ঘদিনের নেতা। একইসঙ্গে দলেও চিকিৎসক-সাংসদ সুভাষ সরকারের একটি আলাদা ইমেজ রয়েছে। তাই তাঁকে মন্ত্রী করা হলে রাজ্য বিজেপির অন্দরেও অসন্তোষ তৈরি হবে না বলেই মনে করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

মন্ত্রিসভার রদবদল হলে বাংলা থেকে জায়গা হতে পারে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের। মূলত মতুয়া ভোট-ব্যাঙ্ক আরও নিশ্চিত করতেই গেরুয়া শিবিরের এই ভাবনা।