তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে থাকা কাশ্মীরের পুলওয়ামাতেই এক সময় জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছে ছেলের। তবুও ‘যুদ্ধ’ চান না বাঁকুড়া রাজগ্রামের ছেলে শহিদ সঞ্জীব কুণ্ডুর মা, বাবা। যুদ্ধ মানেই আরও রক্তপাত, বহু প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়া।

২০০২ সালে কাশ্মীরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার জনসভা করার কথা ছিল পুলওয়ামায়। সেই জনসভার আগের দিন এক জঙ্গির খোঁজে অভিযানে বেরিয়ে বিএসএফের ১০৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ান বছর সাতাশের সঞ্জীব কুণ্ডুকে জঙ্গিদের হাতেই খুন হতে হয়েছিল।

এই ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। সম্প্রতি ১৪ ফেব্রুয়ারি এই পুলওয়ামাতেই জঙ্গি হানায় প্রাণ গিয়েছে দেশের ৪০-এরও বেশি সেনা জওয়ানের। যার মধ্যে এই রাজ্যেরই দু’জন। সারা জীবন ছেলের শোক বয়ে বেড়ানো সঞ্জীব কুণ্ডুর বাবা মায়ের কাছে এই মুহূর্তে শোক যেন আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছেলের স্মৃতি ধরে রাখতে পুলওয়ামা থেকে যেমন মাটি নিয়ে এসেছেন, তেমনি প্রয়াত ছেলের পাওয়া অসংখ্য পুরস্কার সযত্নে গুছিয়ে রেখেছেন তাঁর বাবা মা৷ পাশাপাশি রাজগ্রামের নিজেদের বাড়ির নামও রেখেছেন ‘শহিদ সঞ্জীব কুণ্ডু স্মৃতি ভবন’। এই মুহূর্তে আর এক ছেলে, বৌমা, নাতিকে নিয়ে রাজগ্রামের বাড়িতে থাকেন শহিদ সঞ্জীব কুণ্ডুর বৃদ্ধ বাবা, মা।

পুলওয়ামায়র ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে দেখার পর আরও ভেঙ্গে পড়েছেন তাঁরা। চোখের কোনে চিক চিক করছে জল। আরও চল্লিশেরও বেশি পরিবার হারালো তাদের সন্তানকে। কেউ হলেন স্বামী, সন্তান হারা। কতো সন্তান হল পিতৃহারা। তবুও ‘যুদ্ধ কোন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না’ বলেই মনে করেন শহিদ সঞ্জীব কুণ্ডুর বাবা দিলীপ কুণ্ডু, মা পূরবী কুণ্ডু।

ছেলেকে অকালে হারিয়েও যুদ্ধের বিপক্ষেই সওয়াল করে তাঁরা বলেন, পৃথিবীর সবাই বুঝতে পারছে ওরা অন্যায় করছে। না হলে এতো দেশ আমাদের সমর্থন করত না। কিন্তু যুদ্ধ নয়৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোন পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেই তাঁরা৷ একথা বার বার স্পষ্ট করেছেন শহিদ সঞ্জীব কুণ্ডুর বাবা, মা। একই সঙ্গে গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়েও সরব তারা। এই মুহূর্তে তাঁদের একটাই চাওয়া, যুদ্ধ চাইনা, আর কোন বাবা, মা তাদের সন্তানকে এভাবে হারিয়েছেন তা যেন দেখতে না হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।