স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে বাংলা। সেই কারণেই চিনারাও মাদক পাচারের জন্য বাংলাকেই বেছে নিয়েছে। আর এই সবকিছুই হচ্ছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সহযোগিতায়। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

আরও পড়ুন- “ভাগাড় কাণ্ডে প্রত্যক্ষ মদত ছিল রাজ্য সরকারের”

সপ্তাহ খানেক আগে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয় দুই চিনা মাদক পাচারকারীকে। তাদের থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায় যে এই মাদকের জাল ছড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। মুর্শিদাবাদে মাদকের কারখানাও খুলে ফেলেছিল চিনা মাদক কারবারীরা।

আরও পড়ুন- রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যের নাম বদল করেছেন মমতা: অধীর চৌধুরী

খুব পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছিল যে এই মাদক কারবারের জাল অল্প কয়েকদিনের নয়। এবং এর জাল অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। শনিবার বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়ে মুখে খোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর মতে, “আমাদের রাজ্যে চিনারা এসে মাদক পাচার করছে৷ চিনারা কি করে লাইসেন্স পাচ্ছে পুলিশ সব কিছু জানে। বাংলা আজ চোরা কারবারীদের স্বর্গ রাজ্য হয়ে উঠেছে।”

রাজ্যের শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদত থাকার কারণেই এই কাজে চিনারা সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অধীরবাবু। তাঁর অভিযোগ, “চিনারা জানে কোথায় যেতে হবে৷ চিনারা আমাদের ভাষা বোঝে না৷ কিন্তু চিনারা জানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল বলে একটি দল রয়েছে৷ সেখানে গেলে সব কিছু পাওয়া যায়। এখানকার প্রশাসনের মদতে সব কিছু হচ্ছে৷” প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেছেন, “এখানকার প্রশাসন সব কিছু জানে৷ কিন্তু ভারতবর্ষে নিরাপত্তা প্রশ্ন জড়িত৷ এই রাজ্যে পুলিশের তা নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা নেই।”

বহরমপুরের সাংসদ আরও জানিয়েছেন যে সারা ভারতবর্ষে যত জাল টাকা ঢোকে তত টাকার প্রায় ৯০ শতাংশ এই পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে পাচার হয়। নারী পাচারেও এই রাজ্য প্রথম স্থানাধিকারী বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই কারণেই এই রাজ্যকেই চিনারা টার্গেট করেছে বলে দাবি অধীরবাবুর। তাঁর মতে, “রাজ্যের এই বাতাবরণ দেখে চিনারা মনে করেছিল অন্য রাজ্য গিয়ে লাভ নেই, তাই পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। এখানে শুধু এই পাঁচজন চিনা নয়, এর আগেও চিনারা ধরা পরেছে৷ তাও পুলিশ সতর্ক হয়নি। চিনারা মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ চোরা কারবারের জন্য আদর্শ জায়গা।”

শনিবার বহরমপুরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন অধীরবাবু। সাংবাদিকদের সামনে নানাবিধ বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সেই আক্রমণের মূল লক্ষ্য। দেশের প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রীর মতে, “মুখ্যমন্ত্রীকে একবার চিনে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন চিনাদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে৷ সেই সম্পর্কের পাশাপাশি এখানে চিনাদের আগমন৷ সেই আগমনের কারণ চিনাদের মাদক পাচার৷”