কলকাতা: ৩৫২ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয়দিনের শেষে ৩ উইকেট খুঁইয়ে স্কোরবোর্ডে ৯৮ রান তুলেছে কর্ণাটক। অর্থাৎ, বাংলা আর রঞ্জি ফাইনালের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৭ উইকেটের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ইশান পোড়েলের ইনকাটার একটি ডেলভারি বুঝেই উঠতে পারেননি কর্ণাটকের অন্যতম ভরসা লোকেশ রাহুল। রানের খাতা না খুলে তাঁর প্যাভিলিয়নে ফেরা কর্নাটক শিবিরকে বড়সড় ধাক্কা দেয়। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অখুশি রাহুল মাথা নাড়তে নাড়তে ক্রিজ ছাড়েন।

দ্বিতীয় উইকেটে ইশান পোড়েল-মুকেশ কুমারদের কিছুটা বেগ দিয়ে গেলেন রবিকুমার সামর্থ ও দেবদূত পারিক্কল জুটি। উল্লেখ্য, হাতে অল্পবিস্তর চোট নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিলেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে কর্ণাটকের ব্যাটিংয়ের সময় শুরু থেকে মাঠে পাওয়া যায়নি তাঁকে। তৃতীয় সেশনে মনোজের নামাটাই বাংলা শিবিরে ফের টনিকের কাজ করে। এই সময়েই ক্রিজে থিতু হয়ে যাওয়া সামর্থকে ফেরান আকাশ দীপ। ২৭ রানে লেগবিফোর উইকেট হন তিনি।

এরপর বাংলা পেসারদের দাপটে ক্রিজে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি কর্ণাটক শিবিরের অন্যতম ভরসা করুণ নায়ার। মাত্র ৬ রানে কর্ণাটক অধিনায়ককে ফিরিয়ে বিপক্ষ শিবিরে তৃতীয় ধাক্কাটা দেন আকাশ দীপ। তৃতীয় দিনের শেষে জয়ের জন্য কর্ণাটকের এখনও প্রয়োজন ২৫৪ রান। হাতে ৭ উইকেট। এমন সময় ঘরের মাঠে বাংলা যে বড়সড় অ্যাডভান্টেজ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু না আঁচালে বিশ্বাস নেই। তাই জয় থেকে সাত কদম দূরে দাঁড়িয়েও সাবধানী বাংলা শিবির। দিনের শেষে অর্ধশতরান করে ক্রিজে অপরাজিত দেবদূত পারিক্কল (৫০)। তাঁর সঙ্গী জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান মনীশ পান্ডে। মনীশ অপরাজিত ১১ রানে।

তৃতীয়দিন প্রথম সেশনে কতটা জ্বলে উঠতে পারেন ইশানরা এখন সেটাই দেখার। চতুর্থদিন মর্নিং সেশনের পারফরম্যান্স দেখলেই ম্যাচের ফলাফল সম্পর্কে ধারণাটা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার আগে তৃতীয়দিন খেলা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বোলারদের ভূয়সী প্রশংসা মনোজ তিওয়ারি ও কোচ অরুণ লালের গলায়। মনোজ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘দলের মোটিভেশনে যাতে চিড় না ধরে তাই হাতের চোট উপেক্ষা করেই আমি মাঠে নেমেছি। বোলাররা দারুণ ছন্দে বোলিং করছে। আমরা দারুণ অবস্থায় রয়েছি। মনে হয় আগামীকাল আমরা ম্যাচটা জিতে নিতে পারব।’

অন্যদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে বোলারদের ভূয়সী প্রশংসা করলেও ব্যাটসম্যানদের একহাত নিলেন কোচ অরুণ লাল। তাঁর কথায়, ‘টুর্নামেন্টের শুরু থেকে আমরা ব্যাটিংয়ে একেবারেই ধারাবাহিক হতে পারছি না। তবে বোলাররা আমাদের কাজটা অনেক সহজ করে দিচ্ছে। বাংলা কোচের আরও সংযোজন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে স্কোরবোর্ডে আমাদের আরও ১০০ রান তোলা প্রয়োজন ছিল। তবে প্রতিপক্ষকে আমরা আরও চাপে রাখতে পারতাম। জয়টা আমাদের জন্য আরও সহজ হয়ে যেত।’

উল্লেখ্য, তৃতীয়দিন সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলা। প্রথম ইনিংসে শতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মূল্যবান ৪১ রান আসে অনুষ্টুপের ব্যাট থেকে। ৩১ রান করেন শাহবাজ আহমেদ।