কলকাতাঃ কেন্দ্রের ঘোষণার পর রাজ্যেও বাড়ানো হল লকডাউন। শনিবার নবান্নের তরফে জারি করা হল নির্দেশিকা। আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে বাড়ানো হল লকডাউনের মেয়াদ। কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে লকডাউন জারি থাকবে ১৫ জুন পর্যন্ত। তবে অন্যান্য জোনে নিয়ম শিথিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সিনেমার শুটিং থেকে শুরু করে মন্দির খোলা। এমনকি শপিং মল, হোটেল খোলার ক্ষেত্রেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফে কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে?

জানা যাচ্ছে, আগামী ৮ জুন অর্থাৎ সোমবার থেকে শপিং মল খোলার কথা বলা হয়েছে। তবে অবশ্যই সেখানে সমস্ত নিয়ম মানতে হবে। সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে বলা হয়েছে রাজ্যের নির্দেশিকাতে। শুধু তাই নয়, সেদিন থেকে সমস্ত হোটেল, রেস্তোরা খোলা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

শুটিংয়ের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ শুটিংয়ের কাজ। এর ফলে চাপ বাড়ছে। সেদিকে তাকিয়ে শুটিংয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে। ইন্ডোর এবং আউটডোর শুটিং করা যাবে। আর তা করা যাবে ১ লা জুন থেকে। তবে একসঙ্গে ৩৫ জনের বেশি জমায়েত না করে। তবে এখনই কোনও রিয়েলিটি শোয়ের আয়োজন করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

আগামী ৮ তারিখ থেকে খুলছে সরকারি অফিসও। আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট কর্মীর ৭০ শতাংশ কাজে যোগ দেবেন রোটেশন পদ্ধতিতে। তবে বেসরকারি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বাড়ি থেকে কাজে উৎসাহ দিলেও, কর্মীরা কত সংখ্যায় দফতরে যাবেন তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার উপরেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চা-বাগান, জুটমিল, ছোট এবং মাঝারি শিল্প এবং নির্মাণ শিল্পে ১০০ শতাংশ কর্মী কাজে যোগ দিতে পারবেন আগামী ১ জুন থেকে।

ইতিমধ্যে শহরে বাস পরিষেবা শুরু হয়েছে। প্রচুর সরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে। সোমবার থেকে আরও বেসরকারি বাস এবং মিনিবাসও রাস্তায় নামবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১ জুন থেকে আন্তঃরাজ্য সরকারি-বেসরকারি বাস পরিষেবাও চালু হতে চলেছে। তবে বাসের আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বাসে উঠতে পারবেন না। যাত্রীদের মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস পরতে হবে। নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

খুলছে মন্দির, মসজিদ, গির্জা সহ সমস্ত উপাসনাস্থলও। আগামী ১ জুন থেকেই তা খোলার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তবে অবশ্যই শর্ত সাপেক্ষে। জানানো হয়েছে, কোথাও ১০ জনের বেশি জোড়ো হতে পারবে না। স্যানিটাইজ করতে হবে। যদিও দক্ষিণেশ্বর, বেলুড়ের মতো মন্দিরগুলি জানিয়ে দিয়েছে যে এখনই তাঁরা খুলবে না।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প