নয়াদিল্লি: রেল বাজেটে শিকে ছিঁড়ল না বাংলার কপালে। প্রতিবেশী ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে একাধিক নতুন প্রকল্প তৈরির ঘোষণা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটে। তবে বাংলার ক্ষেত্রে নতুন কোনও প্রকল্পের ঘোষণা হয়নি। এমনকী চালু প্রকল্পগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বরাদ্দও বাড়ায়নি কেন্দ্র। কেন্দ্রের এই বাজেট ঘিরে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। উলটোদিকে কেন্দ্রীয় বাজেটকে সদর্থক বলে দাবি করেছে রাজ্য বিজেপি।

সদ্য প্রকাশিত রেল বাজেটে হতাশ বাংলা। এরাজ্যে একটিো নতুন রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। এমনকী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত প্রকল্পগুলিতে টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার প্রস্তাবিত একাধিক রেল প্রকল্পের ভবিষ্যত বিশবাঁও জলে। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর, জাঙ্গিপাড়া-ফুরফুরা শরিফ, নন্দীগ্রাম-দেশপ্রাণ, দিঘা-জলেশ্বর এবং বাঁকুড়া-মুকুটমণিপুরের মতো প্রকল্পের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঢাকা। বাংলার জন্য নতুন কোনও প্রকল্পই নেই এবারের বাজেটে। নতুন একটি ট্রেনও পাবে না বাংলা।

এদিকে, কেন্দ্রের এই আচরণে স্বভাবতই ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। সদ্য প্রকাশিত বাজেট ঘিরে রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে প্রতিবাদ করছেন, তাতে চটেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এবারের বাজেটে বাংলার জন্য নতুন কোনও প্রকল্প বা বাংলার চালু প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ বাড়ানো নিয়ে কোনও চিন্তা-ভাবনাই করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তৃণমূলের অভিযোগ ‘প্রতিশোধ’-এর রাজনীতি শুরু করেছে কেন্দ্রের শাসকদল। তৃণমূল নেতাদের দাবি, দলের বাংলার প্রতি কেন্দ্রের অবিচারের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে এবারের রেল বাজেটে।

যদিও কেন্দ্রের এই রেল বাজেটে এতটুকু অবাক হননি রাজ্যের বিজেপি নেতারা। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের মতে, ‘রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজেট দেশের কথা ভেবে হয়নি। ওটা বাংলার রেল বাজেট ছিল। পরে আমি ও দীনেশ ত্রিবেদী রেলমন্ত্রী হয়েও সেই বাজেট রক্ষা করতে পারিনি। এখন যে বাজেট হয়েছে তা গোটা দেশের জন্য।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই কেন্দ্র বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএএ বাতিলের দাবিতে একটানা আন্দোলনও করছেন তৃণমূলনেত্রী। এমনকী নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাবও পাশ করিয়েছেন রাজ্য বিধানসভায়। আর তাই গত কয়েকমাস ধরেই কেন্দ্রের বিরাগভাজন হয়েছেন মমতা। সদ্য প্রকাশিত বাজেটে তারই প্রতিফলন খানিকটা হলেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। তবে অন্য অংশের মতে, দেশের রেল প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা ও যাত্রী-চাহিদার বিষয়টি খতিয়ে দেখেই রেল বাজেট পেশ করেছে কেন্দ্র।