কলকাতা: কথায় বলে বাঙালির ভাত আর মাছ না হলে চলে না কারণ মাছ হল অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। সেই কথা মাথায় রেখেই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকারের। পাশাপাশি বাঙালিকে আরও ভালো করে মাছ খাওয়াতে গত কয়েকবছর ধরে আয়োজন করা হচ্ছে ফিশ ফেস্টিভ্যাল ৷ যার উদ্যোক্তা ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স এবং রাজ্য মৎস্য দফতর।

এবারেও তেমন উদ্যোগেই শুক্রবার নলবনে শুরু ফিশ ফেস্টিভ্যাল যার উদ্বোধন করলেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।এই উৎসব চলবে রবিবার ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধনের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার, বেলগাছিয়ার প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পূর্ণেন্দু বিশ্বাস প্রমুখ। তাছাড়া এবারের মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হল ভিনদেশী খাবারেরও স্টল ৷

এই মৎস্য উৎসবে বাহারি মাছের বিভিন্ন সুস্বাদু পদ নলবনে ভেড়ির পাড়ে বসে খাওয়াও যাবে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের মাছ চাষের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় জানার জন্য মেলার প্রাঙ্গনে কৃত্রিম জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা হাতেকলমে মাছ চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি মৎস্যজীবীদের শেখাবেন। এছাড়াও মাছেদের রোগ, খাদ্য ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেশ কয়েকটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে এই মৎস্য উৎসবে৷

মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা জানিয়েছেন, চাহিদা মতো মাছের জোগানের ব্যবস্থা করতে সরকার সচেষ্ট। গতবছরও চাহিদা মতো জোগান সম্ভব হয়েছিল। তবে এবছর এখনও ৬০-৭০ মেট্রিক টন ঘাটতি আছে। তবে এখনও হাতে যা সময় রয়েছে, তাতে তা পূরণ করা যাবে বলেই আশা প্রকাশ করেন। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ছোট এবং প্রায় বিলুপ্ত মাছকে ফের বাঙালির পাতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে মৎস্য দফতর। এছাড়া এদিন রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগমের একটি নতুন অ্যাপেরও উদ্বোধন করা হয়৷