কটক: লড়াইয়েই ফিরে আসা যায়! কটকে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার সেটাই করে দেখালেন অনুষ্টুপ ও শাহবাজ৷ এই দু’জনের ব্যাটে ওডিশার বিরুদ্ধে প্রথম দিনের শেষে ভালো জায়গায় বাংলা৷

অনুষ্টুপ মজুমদারের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং শাহবাজ আহমেদের দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরিতে বৃহস্পতিবার ম্যাচের প্রথম দিনের চালকের আসনে বাংলা৷ কটকে টস জিতে বাংলাকে প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠায় ওডিশা৷ শুরুতেই পর পর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা৷ মাত্র ৪৬ রানে বাংলার অর্ধেক ইনিংস গুটিয়ে যায়৷ প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন(৭), কৌশিক ঘোষ(৯) এবং অভিষেক রমন(১) প্যাভিলিয়নে ফিরে যান৷ চারে নেমে অর্ণব নন্দী ২৪ এবং আগের ম্যাচের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ মনোজ তিওয়ারি মাত্র ৪ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন৷

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের লড়াইয়ে চাপ কাটিয়ে ওঠে বাংলা৷ অনুষ্টুপ প্রথমে শ্রীবৎস গোস্বামী ও পরে শাহবাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলার ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান৷ ষষ্ঠ উইকেটে শ্রীবৎসবের সঙ্গে ৯৬ রান যোগ করেন অনুষ্টুপ৷ কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৪ রানে শ্রীবৎস ফিরে যাওয়ার পর অনুষ্টুপের সঙ্গে বাংলা ইনিংসের হাল ধরেন আগের ম্যাচে বল হাতে কামাল করা শাহবাজ৷

সপ্তম উইকেটে অনুষ্টুপ ও শাহবাজ অবিভিক্ত জুটিতে ১৬৭ রান যোগ করে বাংলাকে তিনশোর গণ্ডি টপকাতে সাহায্য করেন৷ দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন অনুষ্টুপ৷ ছ’ নম্বরে নেমে বসন্ত মোহান্তিদের বিরুদ্ধে ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন বাংলার এই ডানহাতি৷ ইনিংসে ২০টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন অনুষ্টুপ৷ চলতি মরশুমে কোনও সেঞ্চুরি আসেনি তাঁর ব্যাট থেকে। দু’বার শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষরক্ষা হয়নি। ফিরেছিলেন নব্বইয়ের ঘর থেকে। এবার তাই একটু বেশি সতর্ক ছিলেন অনুষ্টুপ৷ প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে অষ্টম সেঞ্চুরির পাশাপাশি এদিন বাংলার জন্য স্বস্তি এনে দিলেন তিনি৷

অনুষ্টুপের সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন শাহবাজ৷ ৮২ রানে অপরাজিত বাংলার এই বাঁ-হাতি স্পিনার। ১৫৪ বলের ইনিংসে ১৩টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন শাহবাজ৷ লিগের শেষ ম্যাচে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১১ উইকেট নিয়ে বাংলাকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন শাহবাজ৷ এদিন ব্যাট হাতে নিঃসন্দেহে বাংলাকে সেমিফাইনালের দিকে এক পা এগিয়ে দিলেন তিনি৷