কলকাতা: প্রথম ম্যাচে কেরলের বিরুদ্ধে থ্রিলার ছয় পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও মূল্যবান তিন পয়েন্ট ঘরে তুলল বাংলা। ২০১৯-২০ রঞ্জি ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের মাঠে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে তিন পয়েন্ট ঢুকল ঈশ্বরণদের ঝুলিতে।

তৃতীয়দিনের শেষে ইডেনে ফলো-অনের আশঙ্কাকে সঙ্গী করেই মাঠ ছেড়েছিল হনুমা বিহারী নেতৃত্বাধীন অন্ধ্র। তৃতীয়দিন ৪৫ রানে অপরাজিত ওপেনার সিআর জ্ঞানেশ্বর অপরাজিত থাকলেন ৭৪ রানে। তাঁর অপরাজিত অর্ধশতরানের ইনিংসে ভর করেই মূলত ফলো-অনের লজ্জা এড়াতে সক্ষম হয় অন্ধ্র। শেষ তিন উইকেটে চতুর্থদিন সকালে ৬১ রান যোগ করে তাঁরা। টেল-এন্ডারদের নিয়ে লড়াই চালান জ্ঞানেশ্বর। ১৮১ রানে শেষ অন্ধ্রর প্রথম ইনিংস।

আকাশদীপ ২টি ও ইশান ১টি উইকেট সংগ্রহ করে চতুর্থদিন অন্ধ্রর ইনিংসে দাঁড়ি টানেন। সর্বসাকুল্যে বাংলার হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট সংগ্রহ করেন হুগলির এই পেসার। ৩ উইকেট নেন আকাশ দীপ। প্রয়োজনীয় ১৪০ রান তুলে ফলো-অনের লজ্জা এড়াতে সক্ষম হলেও জ্ঞানেশ্বরের একার পক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাকে টপকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আর অন্ধ্রর ইনিংসে যবনিকা টানার পরই বাংলার তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে যায়।

যদিও ১০৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে এরপর ব্যাট হাতে ক্রিজে নামেন বাংলার দুই ওপেনার অভিষেক রামন ও অভিমন্যু ঈশ্বরণ। ২১ ওভার ব্যাট করে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৪৬ রান সংগ্রহ করে বাংলা। ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন প্রথম ইনিংসে শতরানকারী রামন। অন্যদিকে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক ঈশ্বরণ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে হাত মিলিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন দুই অধিনায়ক। ম্যাচ অমিমাংসিত অবস্থাতে শেষ হলেও মূল্যবান তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে যায় বাংলা।

উল্লেখ্য, বড় রানের ইঙ্গিত দিয়েও ঘরের মাঠে বাংলা প্রথম ইনিংসে অল-আউট হয়ে যায় ২৮৯ রানে। অথচ একসময় ৪ উইকেটে ২৪১ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের বেশিরভাগ সময় মন্দ আলোয় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচ একসময় নিষ্ফলা ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল। তবে ন্যূনতম সুযোগেই ইশান পোড়েলরা যেভাবে অন্ধ্রর ব্যাটিং লাইন আপে হামলা চালায়, তাতে তৃতীয়দিনই মূল্যবান পয়েন্ট ঘরে তোলার বার্তা দিয়েছিল ঈশ্বরণ অ্যান্ড কোম্পানি।