স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শহীদ দিবস নিয়ে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের কমিশনের রিপোর্ট এতদিন পরও কার্যকর হল না কেন? ২১শে জুলাইয়ের দু-দিন আগে সেই প্রশ্ন তুলেই পথে নামলেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা৷ বৃহস্পতিবার হাজরা চত্বরে মিছিল করেন তাঁরা৷

ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র চালুর দাবিতে ১৯৯৩-র ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান এ দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে রয়েছে। সে দিনের পর থেকে আজও ১৩ জন ‘শহিদ’ সতীর্থের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

২০১১-য় সরকারে এসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওডিশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গড়েছিলেন। ২০১৭-র একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, তাঁর সরকার কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এমনও জানিয়েছিলেন, কমিশন যাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। কমিশন রিপোর্টে ওই গুলি চালানোর ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করেছে বলেও জনসমক্ষে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ বলেন, “২৬ বছর আগে ১৩জন শহিদের কাঁধে চেপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন৷ কিন্তু মসনদে বসে তিনি শহীদদের কথা ভুলে গিয়েছেন৷ এখন ২১ জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চ সিনেমার হিরো-হিরোইনদের ফ্যাশন প্যারডের মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে৷ আমরা জানতে চাই বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়লেও সেটা প্রকাশিত হল না কেন?”

এর আগে এই ইস্যুতে উত্তাল হয়েছে বিধানসভাও৷ সেখানে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেছিলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে সরকারকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট-সহ বিধানসভায় কমিশনের সুপারিশ পেশ করতে হবে। কমিশনের সুপারিশ কী এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা আইনসভার সদস্য এবং সাধারণ মানুষ তো জানতেই পারলেন না! আমরা বহু বার বিধানসভায় রিপোর্ট পেশের দাবি জানিয়েছি।

কিন্তু সরকার নিশ্চয়ই কিছু আড়াল করতে চেয়েছে। যাঁরা সে সময় রাজ্য প্রশাসন বা পুলিশের বড় পদে ছিলেন তাঁদের কাউকে সংসদে পাঠিয়ে আবার কাউকে মন্ত্রিত্ব দিয়ে তো পুরস্কৃতও করা হয়েছে।’ বিরোধীরা মনে করাচ্ছেন, ৯৩-এ স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন বর্তমানে তৃণমূলেরই রাজ্যসভা সাংসদ মণীশ গুপ্ত।

আগামী রবিবার একুশে জুলাই৷ দু-দিন আগে সেই একই প্রশ্ন তুলে একুশের স্মৃতি উস্কে দিল কংগ্রেস৷