স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: রাহুল গান্ধীর সভা বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে শাসক দল অভিযোগ মালদহ জেলা কংগ্রেসের। অভিযোগ প্রস্তুতি সভায় কর্মীদের আসতে ভয় দেখাচ্ছে শাসক দলের নেতা কর্মীদের। ফলে আতঙ্কিত হয়ে রাহুলের সভায় আসতে নারাজ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব।

শনিবার মালদহের চাঁচোলের কলম বাগানে হতে চলেছে রাহুল গান্ধীর সভা। উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী ঈষা খান চৌধুরীর সমর্থনে এ রাজ্যে প্রথম সভা করবেন রাহুল গান্ধী। মূলত এই জেলা থেকেই বাংলায় প্রথম প্রচার শুরু করবে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর সভার প্রস্তুতি কার্যত শেষ। বেলা দুটোর সময় তার হেলিকপ্টার নামার কথা।

আরও পড়ুন : শনির বারবেলায় ‘বেইমান’ মৌসমকে বিঁধতে তৈরি রাহুল

উল্লেখ্য কংগ্রেস গড় বলে পরিচিত মালদহ ও মুর্শিদাবাদ। বরাবর লোকসভা ভোটে মালদহের দুটি কেন্দ্রে গণি পরিবারের সদস্যরা জয়ী হয়ে এসেছে। সম্প্রতি উত্তর মালদহ কেন্দ্রের সাংসদ মৌসম বেনজির নুর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। স্বাভাবিক ভাবে এতে জোর ধাক্কায় খায় কংগ্রেস। ফলে ভোট ঘোষনার আগেই কংগ্রেস জোর কদমে দুই কেন্দ্রে প্রচার শুরু করেছে। বসে নেই তৃণমুল কংগ্রেস ও বিজেপিও।

প্রদেশ কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার বলেন, প্রথম থেকেই এই সভাতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছিল জেলা প্রশাসন। শাসক দলের অঙ্গুলিহেলনে এই সভাতে বাধা দিচ্ছিল তারা। পরবর্তীকালে তারা এই সভার অনুমতি দেয়। সবার প্রস্তুতিতে মিছিল-মিটিং করতে উত্তর মালদহের বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেস কর্মীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুন : বাবুলের শোকজের জবাবে খুশি নয় কমিশন

তাঁর অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হুমকি দিচ্ছে। আসলে তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মালদহ বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। বছরের পর বছর এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন রেলমন্ত্রী গনি খান চৌধুরী। পরবর্তীকালে এই এলাকা থেকে তারই পরিবারের দুই সদস্য আবু হোসেন খান চৌধুরী ও মৌসম বেনজির নূর নির্বাচিত হন। মৌসম নুর মানুষের সাথে বেইমানি করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। এই নির্বাচনে মানুষ তাকে উচিত শিক্ষা দেবে।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর বলেন, সারা বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কাজ করেন। মালদহের মানুষ তাঁর পাশে রয়েছেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই প্রমাণ পেয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। যে কেউ সভা করতে আসতে পারে। তাতে আমরা বাধা দিতে যাব কেন? আসলে ওদের লোক বল নেই৷ পার্শ্ববর্তী বিহার ঝাড়খন্ড থেকে লোক এনে জোর করে মানুষের মনে জায়গা করার চেষ্টা করছে। তাও মাঠ ভরাতে পারবে না। আর এই কারণেই আগেভাগেই নিজেদের হার স্বীকার করে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। ভোটের মুখে গরম রাজনীতি করছে কংগ্রেস।