স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শনিবার বিজেপির রাজ্য কমিটির বৈঠকই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের ‘ওয়ার্ম আপ’৷ লোকসভা নির্বাচনে ৪২ আসনের মধ্যে বিজেপির টার্গেট ২২টি৷ দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পুরুলিয়ার সভামঞ্চ থেকে অঙ্গীকার করেছিলেন, এবার বাংলা থেকে ২২টি আসন চাই৷ কিন্তু ২২টি আসনের স্বপ্ন সফল করতে হলে মাঠে-ময়দানের সংগঠনকে শক্ত করার যে প্রচেষ্টা, তা শুরু করতে হয়েছে অনেক আগেই৷ রাজ্যজুড়ে বিজেপির সংগঠনের হাল দেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে ঠিক কী পর্যায়ে, তা যাচাই করে নেওয়া হবে রাজ্য কমিটির বৈঠকে৷

কার্যকর্তা এবং পদাধিকারি মিলিয়ে শ’পাঁচেক নেতারা সল্টলেকের ইজেডসিসি-তে এই বৈঠকে যোগ দেবেন৷ যদিও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মানতে চাইছে না, ওই বৈঠকই লোকসভা নির্বাচনের ‘ওয়ার্ম আপ’৷ তাঁদের মতে, ভোট তো অনেক দেরি আছে৷ প্রার্থী কারা হবেন তা দিল্লি থেকে ঠিক হবে৷

সম্প্রতি দিল্লিতে জাতীয় কার্যনির্বাহি কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে আগামী বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে অমিত শাহের থেকে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নেই৷ কারণ নভেম্বর মাসে শাহের কার্যক্রমের মেয়াদ ফুরালেও দল তাঁকেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের সেনাপতি হিসেবে চাইছে৷ নভেম্বর মাসে সভাপতি পরিবর্তন হলে লোকসভা ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে দল৷ এছাড়া, বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচন যথেষ্টই জটিল পদ্ধতি৷ সেক্ষেত্রে লোকসভা নির্বাচনের পরই দলের চূড়ান্ত সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপিতে৷ কিন্তু তা ২০১৯ এর জুলাই মাসের আগে কোনও মতেই সম্ভব নয়৷ সেই কারণেই অন্তর্বতীকালীন সভাপতি হিসেবে জুলাই পর্যন্ত রইলেন তিনি৷

রাজ্য বিজেপির নেতারা জাতীয় কার্যনির্বাহি কমিটির বৈঠকের পর মনে করছেন লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যে নেতৃত্বস্তরে কোনও বড়সড় রদবদলের কোনও সম্ভাবনা নেই৷ তবে দলীয় সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে রাজ্যের সমস্ত কাজে খুশি তা নয়৷ রাজ্য বিজেপিতে সক্রিয় কর্মী ক’জন আছে সে প্রশ্নে এখনও অস্বস্তিতে ফেলে নেতাদের৷ যদিও নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে ‘মিসড-কল’ দিয়ে অনেকেই বিজেপির সদস্য হয়েছেন বলে দাবি করেন৷

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চায় সরকারী প্রকল্পগুলির সুবিধা যে যে নাগরিক পেয়েছেন, তাদের অকটা সুষ্পষ্ট তালিকা থাক৷ কারণ সেইসব নাগরিকদের কাছে ভোট চাওয়া সুবিধাজনক৷ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীই যে সেরা ব্যক্তি, তা বোধানোও সুবিধাজনক৷ কিন্তু রাজ্য পার্টির কাছে এলাকা ভিত্তিক এমন কোনও তালিকা আপাতত তৈরি নেই বলেই জানা যাচ্ছে৷ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন৷ ওইদিন রাজ্যের দিকে দিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঠিক রুপায়ণে জনসচেতনতা বাড়াবে বিজেপি৷