স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৮৫০ থেকে ৯০০ মুসলমান প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে শাসকদলকে চিন্তায় ফেলেছিলেন মুকুল রায়৷ বিজেপির টিকিটে পদ্মফুল প্রতীকে ওই মুসলমান প্রার্থীদের বেশিরভাগই জিতে ফিরেছেন৷ নির্বাচন-সন্ত্রাসকে হারিয়ে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ মুসলমান প্রার্থী জয়লাভ করেছেন৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে মুসলমান ভোট নিয়ে আলাদা চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বিজেপি৷

রাজ্যে প্রতিটি সংখ্যালঘু পরিবারের দরজায় যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা৷ বোঝাচ্ছেন, ৩৪ বছর বাম সরকার এবং সাড়ে সাত বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে গিয়েছে৷ দিন দিন গরীব হয়েছে বাংলায় মুসলমান সম্প্রদায়৷ গুজরাট, রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে বাংলায় সাধারণ খেটে খাওয়া মুসলমানদের থেকে এগিয়ে রয়েছে৷ বাংলার মুসলমানরা সাইকেল এবং ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতায় কতদিন সন্তষ্ট থাকবেন?

বাংলায় অধিবাসী মুসলমানদের সংখ্যা মূল জনসংখ্যা ২৭.০১ শতাংশ৷ ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রাপ্ত হয়েছে৷ মালদহে ৫১.২৭ শতাংশ এবং মুর্শিদাবাদে ৬৬.২৮ শতাংশ মুসলমান জনতার বাস৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদহে ৫৩২টি গ্রাম পঞ্চায়েত জিতেছে বিজেপি৷ মুর্শিদাবাদে ১২৩টি আসনে জয়লাভ করেছে পদ্মফুল প্রতীক৷ মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস মাত্র ৬৪টি আসন বেশি পেয়েছে বিজেপির থেকে৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব (সংশোধানী) বিল নিয়ে পার্টির অবস্থান বাংলার মুসলমান জনতাকে বোঝাতে চায় বিজেপি৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করবে৷ এই আইন ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয় তা বোঝানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷ পার্টি নেতারা মুসলমান জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, তৃণমূল কংগ্রেস বা বামদলগুলির ফাদে পা দিয়ে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল সলমর্থন না করার অর্থ উন্নয়নকে মুখের উপর না বলা৷ অন্যদিকে, তিন তালাক ইস্যুকে মুসলমান নারীদের সমর্থনও পাওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি৷

বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতা কাশেম আলী দলের সংখ্যালঘু মোর্চার সম্পাদক৷ বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সাধারণ খেটেখাওয়া মুসলমানদের কাছে পৌছে দিচ্ছেন কাশেম৷ ‘‘এই এলাকায় গরীব মানুষের বাস৷ দুবেলা পেটের ভাত জোগাড় করতে তাঁদের উদয়াস্ত খাটাখাটনি করতে হয়৷ এখানকার মানুষ আর তৃণমূল কংগ্রেসকে ভরসা করে না৷ সাইকেল বা ইমাম ভাতায় এদের পেট ভরে না৷’’

কাশেমের বক্তব্য, মোদী সরকার স্বপ্ন দেখায় না৷ সবকা সাখ সবকা বিকাশের মন্ত্র নিয়ে চলে৷ ‘‘জনধন যোজনার টাকা শুধু হিন্দুরা নয় মুসলমানরাও পেয়েছে, সড়ক যোজনায় শুধু হিন্দুরা নয় মুসলমানরাও হেঁটেছে, উজালা যোজনায় এলপিজি সংযোগ পেয়ছে হিন্দু-মুসলমান পরিবাররা৷ মোদী সরকারের আমলে ২ লক্ষ মুসলমান জনতা হজ করতে যেতে পারবে৷ বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সে ক্ষমতা নেই৷ এর আগেও বছরে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার জনতা ভারত থেকে হজে গিয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর জন্যই তা সম্ভব হয়েছে৷’’