নয়াদিল্লি: সপ্তদশ লোকসভা অধিবেশনের প্রথমদিনও লোকসভা নির্বাচনের মতোই নাটকীয়তা পূর্ণই হয়ে ওঠে৷ প্রথমদিনে নব নির্বাচিত সাংসদদের শপথগ্রহণ পর্ব ছিল৷ তবে এই শপথগ্রহণ পর্বেও শোনা গেল জয় শ্রীরাম স্লোগান৷

সোমবার এই শপথগ্রহণে বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরী, উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই দুই সাংসদও৷ বাবুল সুপ্রিয়কে শপথগ্রহণে আমন্ত্রণ জানাতেই বিজেপি সমর্থকেরা জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে শুরু করে৷ এরপরে যখন শপথ গ্রহণে যখন দেবশ্রী চৌধুরী উপস্থিত হন তখনও একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হয়৷

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নির্দল সাংসদ অমরাবতী বলেন, ‘এই ধ্বনির জন্য এটা সঠিক স্থান নয়, এর জন্য মন্দির রয়েছে৷ প্রত্যেক ভগবানইসমান, কোনও একজনকে টার্গেট করে সেই নাম নেওয়া অত্যন্ত অন্যায়৷’

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকে তর্ক-বিতর্ক চলছে৷ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের সামনে অনেকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছে, যা শুনে মেজাজও হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুধু তাই নয় পরবর্তীকালে তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের দেখেও একই স্লোগান উঠেছে বহু জায়গায়৷ বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির সামনে শ্রীরামের মূর্তি গড়ার কথাও যেমন বলেন বাবুল সুপ্রিয়, তেমনই তাঁকে দশ লক্ষ জয় শ্রীরাম লেখা পোস্ট কার্ড পাঠানোর উদ্যোগও নেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং৷

যদিও এর পাল্টা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস শিবির৷ বিজেপি নেতা নেত্রীদের মোবাইল মেসেজ, হোয়াটস অ্যাপে পৌঁছে যেতে থাকে জয় হিন্দ, জয় বাংলা স্লোগান৷ যার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে স্পষ্ট জানান, ‘আমার ফোনে জয় হিন্দ এবং জয় বাংলা যারা এসএমএস করছেন তাদের সবাইকে আমি উত্তর দিতে পারিনি, তাই এখানেই উত্তরটা দিলাম। একজন ভারতবাসী ও একজন বাঙালি হয়ে এই এসএমএস পেয়ে আমি গর্বিত বোধ করি। আগামী দিন আমরা সবাই একসাথে হয়ে পথ চলবো সোনার বাংলা তৈরি করবার লক্ষ্যে। ভালো থাকুন, সুস্থ হয়ে উঠুক আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। জয় হিন্দ, জয় বাংলা , জয় শ্রী রাম আমাকে আরো শুভেচ্ছা পাঠানোর অনুরোধ রইল।’

এখানেই থেমে না থেকে পরে আরও একটি পোস্ট করেন তিনি৷ সেখানে লেখা, ‘অপূর্ব, এটাই টিএমসির পরিচয়৷ একজন মহিলাকে অসম্মান করা৷ তৃণমূলের কুরুচিকর মানসিকতা তুলে ধরে সেখানেই তিনি ডাক দেন, টিএমসি হঠাও বাংলা বাঁচাও৷’