দেবময় ঘোষ, কলকাতা: কিভাবে বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচন সংঘটিত হবে তা নিয়ে শুক্রবারই রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনে বৈঠক হয়ে গিয়েছে। তবে যা খবর, অন্তর্দলীয় নির্বাচন সঠিক ভাবে পরিচালনা করার প্রশিক্ষণ পেতে চলেছে বিজেপি কর্মীরা। আগামী ২৪ অগস্ট কলকাতায় এবং ২৫ অগস্ট শিলিগুড়িতে এই প্রশিক্ষণ শিবির চলবে। বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচনে রাজ্যের আধিকারিক হলেন সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি প্রশিক্ষণ পর্বে অংশ নেবেন। অন্যান্য বরিষ্ঠ নেতারাও অংশ নেবেন। প্রতাপবাবুকে সাহায্য করবেন, সহ নির্বাচন আধিকারিক শ্যামচাঁদ ঘোষ। ২০২১ সালে পার্টির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের লড়াই করবে বিজেপি। সেই লড়াই শুরুর আগেই রাজ্য পার্টির অন্দরেই সংগঠিত হবে অন্তর্দলীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচনেই স্থির হয়ে যাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি কে হবেন।

সভাপতি হিসাবে দিলীপ ঘোষ-ই থেকে যাবেন, নাকি দিলীপের জায়গায় আসবেন নতুন কোনও মুখ। ইতিমধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় পার্টি থেকে জাতীয় নির্বাচন আধিকারিক হিসাবে মনোনীত হয়েছেন রাধামোহন সিং। দেশের প্রতিটি রাজ্যেই বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচন পদ্ধতি শুরু হওয়ার পথে। সূত্রের খবর, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচন পক্রিয়া শুরু হবে। বুথ সভাপতি, বুথ কমিটি, মণ্ডল সভাপতি, জেলা সভাপতির নির্বাচন হবে প্রথমে। তারপর, শুরু হবে, রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের কাজ। এবং, এর সঙ্গেই রাজ্য থেকে বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিল বা জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচনও একই ভাবে চলবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

শুক্রবারের বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নেতাদের বোঝানো হয়েছে, দলের সংবিধানে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিবর্তন বুঝে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। প্রদেশ বা রাজ্যস্তরে এক নেতা জেলায় গিয়ে নির্বাচনের কাজ দেখবেন। জেলার এক নেতা তাঁকে সহযোগিতা করবেন। নির্বাচন পক্রিয়ায় অত্যন্ত মতবিরোধ যদি না থাকে, তাহলে, সাধারণত ব্যালট দিয়ে ভোট হয় না সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হবেন জেলা বা রাজ্যের পদাধিকারীরা। সেটিই নিয়ম। রাজ্য সভাপতি নির্বাচন সব শেষে হবে।

বুথ কমিটি এবং ৫০ শতাংশ মণ্ডলস্তরের নির্বাচন সম্পূর্ণ হলে তবেই রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি আসবে। একইভাবে জাতীয় ক্ষেত্রেও পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ বা জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন। নির্বাচন হবে সর্বসম্মতিক্রমে। এক্ষেত্রেও ভোটপর্ব সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।