ফাইল ছবি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: রাজনীতিতেই থাকবেন সায়ন্তন বসু৷ রাজ্য বিজেপির এই সাধারণ সম্পাদক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব৷ শুধুই সুবক্তা নয়, সায়ন্তন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমেও এক উল্লেখযোগ্য মুখ৷ কিন্তু বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হওয়ার পরই সায়ন্তন সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের অন্দরে জোর জল্পনা শুরু হয়, তবে কী নির্বাচনে হেরেই হতাশ হয়ে গেলেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ? ২৩ মে-এর পর থেকে ৭ জুনের আগে পর্যন্ত সেভাবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি সায়ন্তন৷ তবে ৭ জুন অর্থাৎ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন৷ সাফ জানিয়েছেন, রাজনীতিতে আছেন, থাকবেন৷

শোনা যায়, বহিরহাট লোকসভা কেন্দ্র সায়ন্তনের ব্যক্তিগত পছন্দের গন্তব্য ছিল না৷ ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা সায়ন্তনের পছন্দ ছিল পুরুলিয়া কেন্দ্রটি৷ কিন্তু দলের নির্দেশে বহিরহাটে লড়াই করতে এসে তিনি ভালোই লড়াই করেছেন বলে মনে করছেন বিজেপির একাংশ৷ ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে বসিরহাট কেন্দ্রে তিনি দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন৷ পরাজয়ের ব্যবধান ৩ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি হলেও দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন তিনি৷ কিন্তু ২০১৪ সালে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিনি মাত্র ১৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছিলেন৷ ২০১৪ সালে ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট প্রার্থী৷ জয়ী তৃমমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৯ শতাংশ৷ এবছর বসিরহাট কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মাত্র ৫ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে৷ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে অনেকটাই মেরুকরণের নির্বাচন হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷

পড়ুন:   মমতার ‘পলিটিক্যাল ইগো’কে অস্ত্র বানাবে রাজ্য বিজেপি: নীতি আয়োগ

নির্বাচনের ফলাফল বেরনোর পর সায়ন্তন নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে লিখেছিলেন, ‘‘একটা পুরনো স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে৷ আগামী বছর বা তার পরেই বিজেপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে৷ বাংলার জনতা তা অনুধাবন করতে পেরেছে৷ কেউ আটকাতে পারবে না৷ আমি ওই দিনে খুব খুশি হব৷ ব্যক্তিগতভাবে ১৮ বছর ধরে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী৷ আমাদের গাড়িটা (রাজ্য বিজেপি-কে বোঝানো হয়েছে) অনেক কষ্টেও চলছিল না, কিন্তু এখন সেটি পূর্ণ শক্তিতে চলছে৷ এই গাড়ির চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিতে যাঁরাই আসবেন আমি তাদের দায়িত্ব দিয়ে এগিয়ে যাব৷ আমি নিজের আদর্শগত এবং সামাজিক মূল্যবোঝ বজায় রাখব এবং সেই লক্ষেই কাজ করব৷’’

সায়ন্তনের এই বার্তা দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি আবার হয়তো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্গের কাজকর্মের সঙগ্গেই নিজেকে যুক্ত করতে চাইছেন বা দলের একঝাঁক নতুন সাংসদের মাঝে নিজের হতাশা চেপে রাখতে পারছেন না৷ এমনকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং মেদিলীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষও বলেছেন, এমন কিছু হলে সায়ন্তনকে বোঝাবার চেষ্টা করব৷ সায়ন্তনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক কর্মীরা মুরলীধর সেন লেনে রাজনীতি করতেন, তাঁরাও আশঙ্কায় ছিলেন৷ অনেকেরই মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো রাজনীতি থেকে দূরে সরে সঙ্ঘের কাজেই মন দেবেন৷ তবে শুক্রবার সকলের ভুল ভেঙেছেন সায়ন্তন৷ এতদিন কোথায় ছিলেন? সায়ন্তনের জবাব, ‘‘জয় বাংলা হয়েছিল৷’’ ইতিমধ্যেই বিজেপির জয়শ্রীরামকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জয়বাংলা’ স্লোগান চালু করেছেন৷ জন্ম দিয়েছেন নতুন বিতর্কেরও৷ ওই স্লোগানকে আশ্রয় করেই কৌশলী জবাব দিয়ছেন সায়ন্তন৷ আগামী দিনে কঠিন লড়াইয়ের জন্য তৈরি, তাও জানিয়েছেন৷