স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে স্বাগত জানাতে তৈরি রাজ্য বিজেপি। যা খবর, ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনে শোভন এলেই সংবর্ধনা পাবেন।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ শুক্রবার বলেন, ” উনি কি ভাবছেন আলোচনা করবো। কথা হবে। আমার সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। এত বড় নেতা পার্টিতে এসেছেন।নিশ্চয়ই সম্মান জানাব। ”

কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদানের জোর আলোচনা, এই পরিস্থিতিতে ২০২০ সালে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে শোভন চট্টোপাধ্যায় কী বিজেপির মেয়র পদপ্রার্থী হতে চলেছেন। দিল্লিতে শোভন যোগদানের পর বিজেপি যে ‘ছোট লালবাড়ি’ দখল করতে চলেছে, তা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে ৪০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি  কাউন্সিলর, বিধায়ক এবং কলকাতার মেয়র হন। তাঁর এই অভিজ্ঞতাকেই সম্মান করছে বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অনেক নেতাই বিজেপিতে এসেছেন। কিন্তু, সাম্প্রতিক অতীতে এটাই সব থেকে উল্লেখযোগ্য দলবদল হিসাবে মানছেন রাজনৈতিক  বিশেষজ্ঞরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব থেকে কাছের মানুষ দের মধ্যে একজন ছিলেন শোভন। শোভনের দলবদল মমতার কাছেও চাপের হতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি।

২০২০ সালে ‘ছোট লালবাড়ি’ বা কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। ২০২১ সালে মহাগুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছোট লালবাড়ির নির্বাচন ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে বিজেপি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই এগোতে চায়- এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের পরই দলে নেওয়া হয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। রাজ্যের দুই পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং অরবিন্দ মেনন শোভনের ব্যাপারে পার্টিকে রিপোর্ট সদর্থক দিয়েছেন।

শোভনকে তৃণমূলে ফেরাতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং চেষ্টা করেছিলেন। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। কিন্তু কাজ হয়নি। দিল্লিতে বিজেপির পথেই বেছে নিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র।

শোনা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেননি, তখনও শোভন ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। যুব কংগ্রেসের একজন প্রতিনিধি হয়ে জাপানে গিয়েছিলেন শোভন। খবর পান তাঁর ‘মমতাদি’ তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছেন। সোনা যায় জাপান থেকে এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
মমতার এক সময়কার সাধের এবং স্নেহের ‘কানন’কেই মালা পড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেন।