দেবময় ঘোষ, কলকাতা: তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস এবং প্রশান্ত কিশোর – এই চার রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে , ধারণা বিজেপির। বাংলায় ইতিমধ্যেই সিপিএম এবং কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা এই সম্ভাবনার কথা বলাবলি শুরু করেছেন। রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনেও সেই খবর পৌঁছেছে।

তবে সবটাই প্রশান্ত কিশোরের ‘দাবার চাল’ মনে করছেন বিজেপির ‘স্ট্রাটেজিস্ট’রা। বিজেপির অন্দরের খবর, বৃহত্তর জোট না হলেও তলায় তলায় বাম ও কংগ্রেস জনতাকে বিজেপির বিরুধ্যে ক্ষেপিয়ে তোলাই প্রশান্ত কিশোরের আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ঠিক যেমন লোকসভা নির্বাচনে হয়েছে। বাম ও কংগ্রেস জনতার ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুধ্যে গিয়ে পড়েছে। সুফল পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে সময় একইভাবে হিসাব উল্টে দিতে চান প্রশান্ত। বাম ও কংগ্রেস ভোট মমতার পক্ষেই পড়ুক – সেই পথ প্রশস্ত করতে চান তিনি।

আরও পড়ুন : একুশের হাওয়া বুঝে তবেই বাড়িতে রাম-নামের আসর বসাবেন মদন

ইতিমধ্যেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে একসাথে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও সে ইঙ্গিত সপাটে খারিজ করেছেন বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। কিন্তু তাতেও কি জল্পনা থেমে থাকছে? সিপিএম বিধায়ক তন্ময় চক্রবর্তী এবং আনিসুর রহমান বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকে ইস্যু বুঝে সমর্থনের কথা বলেছেন। আবার কংগ্রেস নেতা এবং মুখপাত্র ওমপ্রকাশ মিশ্র প্রায় একইরকম কিছু বলেছেন।

বিজেপি অবশ্য উত্তর তৈরি রেখেছে। বিজেপির ধারণা শুধু, তৃণমূল, সিপিএম, কং নয়, খেলছে প্রশান্ত কিশোরও। রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ” লোকসভা নির্বাচনের আগে ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে ২৩টি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং উপনেতাদের নিয়ে যে মহাজোটের কথা বললেন তা তো কিছু হলো না। আবাহনের আগেই বিসর্জন হলো। নির্বাচনের ফলাফল বলছে , বিজেপি ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। আবার মহাজোট না করে তাই মিনি জোট করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই তিনি বিধানসভায় বলেছেন, আসুন হাতে হাত মেলাই।”

আরও পড়ুন : কল ড্রপে জেরবার ‘টক টু মেয়র’, BSNL ছাড়তে চান বিরক্ত ফিরহাদ

তবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সতর্ক হয়ে গিয়েছে। মাত্রই ৭ শতাংশ ভোট যাতে আর না ক্ষয় হয় সেই কারণেই তন্ময় ভট্টাচার্যের কথার অনুমোদন করা হচ্ছে না। রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, বিজেপিকে নিয়ে তৃণমূলের এবং তৃণমূলকে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক বিপজ্জনক প্রবণতা চালু করার চেষ্টা হচ্ছে।