কলকাতা: তিন কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন ‘ফলের বিষয়ে আশাবাদী’ ছিলেন তিনি। ফলপ্রকাশের পরেই সুর বদলে গেল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। উপনির্বাচনে কোনও আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি বিজেপি। এই হারের পিছনে দলের বহু জায়গায় খামতি রয়েছে বলে স্বীকার করে নেন দিলীপবাবু। এই হারের কারণ বিশ্লেষণ করে দেখবে বিজেপি হাইকম্যান্ড এই বিষয়ও জানান তিনি।

এই প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা এই হারের কারণ খতিয়ে দেখব। আমাদের কর্মীদের উৎসাহ ভালই ছিল কিন্তু আমরা মার খেয়ে গিয়েছি অভিজ্ঞতার অভাবে। তাই লোকসভায় ১৮টা আসন ছিনিয়ে নিলেও বিধানসভা উপনির্বাচনে আমরা একটাও আসন পাইনি।’

হারলেও নিজের দলের কর্মীদের নিয়ে সন্তুষ্ট দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা যথেষ্ট ছিল।’ বঙ্গ রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দলে হিসাবে উঠে আসা বিজেপির এই তিনটি কেন্দ্রে বিধানসভার উপনির্বাচন ছিল ক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ। ২০২১-বিধানসভা ভোট আর তার আগেই এই নির্বাচনকেই পাখির চোখ করে এগোতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। ভোটের দিন দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় তৃণমূল-বিজেপি। নদিয়ার করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ৩২ নম্বর বুথের বাইরে লাথি মেরে ঝোপে ফেলে দেওয়া হয় বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারকে।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও ভোট শেষে সন্তুষ্ট ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। কিন্তু ভোটের ফলপ্রকাশ হতেই কপালে ভাঁজ পড়ে বিজেপি নেতাদের। বেলা যত গড়িয়েছে তৃণমূল প্রার্থীদের হাসি ততটাই চওড়া হয়েছে। অন্যদিকে ম্লান দেখিয়েছে গেরুয়া প্রার্থীদের। দিন শেষে দেখা যায় করিমপুর,কালিয়াগঞ্জ,খড়গপুর সদর প্রতিটি কেন্দ্রেই ক্ষমতা দখল করেছে তৃণমূল।

উপনির্বাচনের ফলে ২০২১-এ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বিজেপিকে চাঙ্গা করতে দলীয় কর্মীদের ‘ভোকাল টনিক’ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এ দিন তিনি বলেন, ‘আমরা হয়ত এই নির্বাচনে হেরেছি। তবে আমরা এই হারের কারণ গুলো খতিয়ে দেখে ২০২১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আমার দলের কর্মীরা জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।’