জয়পুর: রাজস্থানের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য ১৩৫ রান প্রয়োজন ছিল বাংলার। হাতে ছিল ৬টি উইকেট। তবে প্রথম ইনিংসে যে দল মাত্র ১২৩ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছে, একই ম্যাচের চতুর্থ দিনের পিচে তাদের লোয়ার অর্ডার এত বড়সড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে ছিল ঘোর সংশয়। অবশ্য শেষ ইনিংসে বাংলার ৩২০ রান তুলে জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই প্রবল দ্বিধায় ছিল বিশেষজ্ঞমহল।

কাজটা অত্যন্ত কঠিন ছিল সন্দেহ নেই। তবে সেই কঠিন কাজটাই দায়িত্ব নিয়ে সম্পন্ন করলেন অল-রাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ। সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে বল হাতে মহীরুহ হয়ে উঠতে না পারলেও, ব্যাট হাতে তিনি উত্তেজক জয় এনে দিলেন বাংলাকে। ম্যাচ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৬ পয়েন্ট ঘরে তোলায় রঞ্জির নক-আউটে যাওয়ার রাস্তা সুগম হল অভিমন্যু ঈশ্বরনদের।

গত দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান অনুষ্টুপ মজুমদার ও শ্রীবৎস গোস্বামী চতুর্থ দিনের শুরুতেই আউট হয়ে বাসায় বাংলার কাজ আরও জটিল হয়ে হয়ে দাঁড়ায়। ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে অনুষ্টুপ যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য বাংলার দরকার ১২২ রান। সেখান থেকে অর্ণব নন্দী, আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমারকে সঙ্গে নিয়ে ছোট ছোট পার্টনারশিপে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন শাহবাজ। দলগত ২৮৭ রানের মাথায় বাংলার ৮ উইকেটের পতন ঘটে। তখনও পর্যন্ত জয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল বাংলা শিবির। মুকেশ কুমার এক প্রান্ত দিয়ে যথাযথ সঙ্গ দেওয়ায় দলকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় শাহবাজের পক্ষে।

শেষমেশ ব্যক্তিগত ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন শাহবাজ। মুকেশ নট-আউট থাকেন ৯ রান করে। অর্ণব ও আকাশ দীপের অবদান যথাক্রমে ২৯ ও ২৩ রান। অনুষ্টুপ ৩৫ ও শ্রীবৎস ২১ রান করে আউট হন। আগের দিন কৌশিক ঘোষ ৬৪ ও অভিমন্যু ৬২ রান করে আউট হয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে রাজস্থানের ২৪১ রানের জবাবে বাংলা প্রথম ইনিংসে অল-আউট হয়ে যায় ১২৩ রানে। ১১৮ রানে এগিয়ে থেকে রাজস্থান দ্বিতীয় ইনিংসে অল-আউট হয় ২০১ রানে। অর্থাৎ জয়ের জন্য বাংলার সামনে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৩২০ রানের। শেষ ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলা। ২ উইকেটের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে উত্তেজক জয় ছিনিয়ে নেয় অভিমন্যু ঈশ্বরনের নেতৃত্বাধীন বাংলা দল। ম্যাচের সেরা হন শাহবাজ।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা