অভিষেক কোলে: ইন্ডিয়া-এ টিমে যোগ দিতে যাওয়ায় অভিমন্যু ঈশ্বরণকে পাওয়া যায়নি। পিচের সম্ভাব্য গতিবিধি আঁচ করে স্পিনার আমির গনিকে বসানো হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চে। নজর কাড়তে ব্যর্থ বি অমিতকে সরিয়ে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া শ্রেয় মনে করে বাংলা টিম ম্যানেজমেন্ট। পরিবর্তে শামি-মুকেশের জোড়া পেস অস্ত্রের সঙ্গে অল-রাউন্ডার ঋত্ত্বিককে দলে ঢোকানোর সিদ্ধান্ত নেয় মনোজ অ্যান্ড কোং। দিন্দা ও ইশান পোড়েলকে মিলিয়ে চার পেসারে দল সাজালেও ইডেনের সবুজ বাইশগজে গুরুত্বপূর্ণ টসে হেরে যাওয়ায় পিচ ও পরিবেশের প্রাথমিক সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়নি বাংলার পক্ষে।

ফল যা হওয়ার হলও তাই। ইডেনের প্রানবন্ত পিচে টসে জিতে প্রথমে বল করে বাংলাকে ১৪৭ রানে অল-আউট করে দেয় কেরল। বাংলার ইনিংস স্থায়ী হয় সাকুল্যে ৫৬.২ ওভার। মাত্র চার ব্যাটসম্যান দু’ অংকের রানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন৷ আর পাঁচজন ব্যাটসম্যান থাতায় খুলতে পারেননি৷

দিনের শুরুতেই কৌশিক ঘোষকে শূন্য রানে আউট করে বাংলা শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন বাসিল থাম্পি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা সুদীপ চট্টপাধ্যায়কে খাতা খোলার সুযোগ দেননি সন্দীপ ওয়ারিয়র। অভিষেক রামন ৪০ রান করে সন্দীপের দ্বিতীয় শিকার হন। প্রথম সেশনেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে সাজঘরে ফেরেন দলনায়ক মনোজ। ২২ রান করে নিধীশের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ঋত্ত্বিক ১ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি। তাঁকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান নিধীশ। বিবেক (১৩) ও শামিকে (০) পরপর দু’বলে আউট করেন বাসিল। দিন্দা খাতা খোলার আগেই জলজ সাক্সেনার বলে উইকেট দিয়ে আসেন। চায়ের বিরতিতে বাংলা ১৩৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে যায়।

একা অনুষ্টুপ লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরি করে বাংলাকে দেড়শো রানের দোরগোড়ায় নিয়ে যান। চায়ের বিরতির কিছুক্ষণ পরেই অনুষ্টুপ নিধীশের বলে উইকেট দেন। ফিরে যাওয়ার আগে ৯৭ বলে ৫৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। মুকেশ কুমারকে ৯ রানে ফিরিয়ে বাংলার প্রথম ইনিংসে দাঁড়ি টেনে দেন থাম্পি।

সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে থাম্পি নেন ৫৭ রানে ৪ উইকেট। নিধীশ নিয়েছেন ২২ রানে ৩ উইকেট। ৪২ রানে ২ উইকেট সন্দীপ ওয়ারিয়রের। ১৬ রানে একটি উইকেট দখল করেন জলজ সাক্সেনা। আগের ম্যাচে ইডেনে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট পেলেও কেরলের বিরুদ্ধে হার বাঁচানোই এখন লক্ষ্য মনোজদের৷