ছবি- মিতুল দাস

সুশান্ত মণ্ডল: আগের ম্যাচে ‘বাঘ’ পরের ম্যাচেই হয়ে গেল ‘বিড়াল’৷ বাংলার এই প্রবাদটা বঙ্গক্রিকেটের জন্য আদর্শ৷ গত সপ্তাহে ক্রিকেটের নন্দনকাননে দিল্লিকে নক-আউট করে রঞ্জি ট্রফিতে নট-আউটের আশা জিইয়ে রাখে বাংলা৷ ৩২২ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয়ের পরের ম্যাচেই ১৮৭ রানে শেষ মনোজ অ্যান্ড কোং৷

দিল্লির বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়ে বঙ্গক্রিকেটে ইতিহাস রচিত হয়েছে৷ রঞ্জিতে এটাই বাংলার সবচেয়ে বেশি রান তাড়া জয়৷ কিন্তু পঞ্জাবের বিরদ্ধে পছন্দের পিচেও ব্যর্থ বাংলার ব্যাটসম্যানরা৷ পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে শুরুতেই ব্যাকফুটে বাংলা৷ মরশুমের প্রথম টস জিতে সল্টলেকের যাদবপুর ক্যাম্পাসের মাঠে প্রথম ব্যাটিং নিতে দ্বিধা করেননি বাংলার অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি৷ কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলার সাত পয়ন্টের স্বপ্নে জল ঢেলে দেয়৷ ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য ব্যাটসম্যানদের মানসিকতাকে দায়ী করছেন মনোজদের মেন্টর অরুণ লাল৷

ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ৷ ব্যাটসম্যান বড় ইনিংসের মানসিকতাই নেই৷ আগের ম্যাচে এত ভালো খেলার পর এখানে আমরা দুশোর আগে গুটিয়ে গেলাম৷ ২৫০-২৮০ রান আমাদের করা উচিত ছিল৷’ বাংলার ১৮৭ রানের জবাবে প্রথম দিনের শেষে ২ উইকেটে ৪৭ রান তুলেছে পঞ্জাব৷ ব্যক্তিগত ৩৬ রানে ক্রিজে রয়েছেন শুভমন গিল৷ স্বপ্নের ফর্মে থাকা পঞ্জাবের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে এদিন ব্রিবত করতে পারেননি বাংলার বোলাররা৷ ১ রানে গিলের সঙ্গী আনমলপ্রীত সিং৷

স্পিন সহায়ক পিচে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে বাংলা৷ মাত্র ৫৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বঙ্গ ইনিংসকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেয় সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীবৎস গোস্বামীর লড়াকু ব্যাটিং৷ দু’জনেই হাফ-সেঞ্চুরি করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ৷ দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিংয়ের পরেও ব্যক্তিগত ৫২ রানে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন সুদীপ৷ ১৪২ বলের ইনিংসে মাত্র ৩টি বাউন্ডারি মারেন বাংলার এই বাঁ-হাতি৷ ষষ্ঠ উইকেটে ৬৫ রান যোগ করার পর বিনয় চৌধুরির বলে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন সুদীপ৷

আর এক বাঁ-হাতি শ্রীবৎসও হাফ-সেঞ্চুরির পর প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন৷ বাংলা ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোর অবশ্য তাঁরই৷ ৫৭ রান করে আউট হন বাংলার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান৷ চারটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি মারেন শ্রীবৎস৷ শেষ দিকে প্রদীপ্ত প্রামাণিক ও অশোদ দিন্দার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শোর গণ্ডি টপকায় বাংলা৷ প্রদীপ্ত ২৯ বলে ১৯ এবং দিন্দা ১৫ বলে ১৮ রান করেন৷ পঞ্জাবের হয়ে সর্বাধিক উইকেট বিনয়ের ঝুলিতে৷ ৬২ রান দিয়ে ৬টি উইকেট তুলে নেন অমৃতসরের বাঁ-হাতি স্পিনার৷


পঞ্জাবের বিরুদ্ধে জিতলে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা থাকবে বাংলা৷ না-হলে গ্রুপ থেকেই বিদায় নিতে হবে মনোজদের৷ পঞ্জাবের বিরুদ্ধে বাংলার এই ম্যাচটা তাই কার্যত নক-আউটের আগে নক-আউট৷ কিন্তু ডু অর ডাই ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি বাংলার৷ ইনিংসের শুরুতেই অভিষেক রমনকে ০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান মনপ্রীত গোনি৷ স্কোরবার্ডে ২১ রান ওঠার মাঝেই দু’ উইকেট খুঁইয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা৷ অভিষেকের পর ব্যক্তিগত ৭ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন দিল্লির বিরুদ্ধে ১৮৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা অভিমন্যু ঈশ্বরন৷

আগের ম্যাচে ইডেনে দিল্লির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে বাংলাকে একার কাঁধে টেনেছিলেন বঙ্গক্রিকেটের ‘অভিমন্যু’৷ এদিন অবশ্য গনির চক্রব্যুহে উইকেট দিয়ে আসেন ঈশ্বরন৷ ব্যর্থ অধিনায়ক মনোজ৷ ব্যক্তিগত ৪ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন বঙ্গ অধিনায়ক৷ দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরি করা অনুষ্টুপ মাত্র ১৫ এবং ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায় ০ রানে আউট হন৷ লাঞ্চে ৮৭ রানে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলা৷ সেখানে সুদীপ ও শ্রীবৎসের লড়াই বাংলাকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেয়৷