ফাইল ছবি

কলকাতা: ২০০৬-০৭ পর রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে পৌঁছনোর আশা তবে কী ঘরের মাঠেই রেখে আসতে চলেছে বাংলা। ইডেন গার্ডেন্সে সেমিফাইনালের প্রথমদিনের প্রথম সেশনে মনোজদের ব্যাটিং দেখে কিন্তু এতটুকু আশায় বুক বাঁধার কারণ দেখছেন না অনুরাগীরা। ওদিকে হ্যাগলে ওভালের গ্রিন টপে কোহলিদের যখন নাকানি-চোবানি খাওয়ালেন সাউদি, বোল্টরা। তখন ক্রিকেটের নন্দনকাননে ঈশ্বরণ-মনোজদের মাটি ধরালেন অভিমন্যু মিঠুন, রনিত মোরে সমৃদ্ধ কর্ণাটকের পেস অ্যাটাক।

কর্ণাটকের বোলিং বিভাগের সামনে ঘরের মাঠে প্রথম সেশনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। টস জিতে এদিন বাংলাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি কর্ণাটক অধিনায়ক করুণ নায়ার। আর ইডেনের সবুজ পিচে অধিনায়কের আস্থাকে মর্যাদা দিয়ে প্রথম সেশনে বাংলার ব্যাটসম্যানদের উপর কার্যত ছড়ি ঘুরিয়ে গেলেন কর্ণাটকের পেসাররা। দিনের তৃতীয় ওভারে অভিষেক রমনকে ফিরিয়ে বাংলা শিবিরে প্রথম ধাক্কাটা দেন মিঠুন। ১০ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় বাঁ-হাতি ওপেনারকে।

এরপর একাদশ ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার শিকার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে ১৭ রানের মধ্যেই ২ উইকেট খোয়ানোর পর দলের ব্যাটিংকে স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দাঁড় করানোর জন্য প্রয়োজন ছিল একটা বড় পার্টনারশিপ। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৭ রানের মাথায় অর্ণব নন্দীকে ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৬ রানের জুটি ভাঙেন মিঠুন। ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ অরুণ লালের দরাজ সার্টিফিকেট পাওয়া পোড় খাওয়া মনোজ তিওয়ারি ব্যর্থ হলেন সেমির মহামঞ্চে। মাত্র ৮ রানে কৃষ্ণাপ্পা গৌতমের শিকার হলের দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান।

৮৩ বল খেলে ২০ রান করে ক্রিজে বেশ থিতু হয়ে গিয়েছিলেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার বলে রনিত মোরের ডেলিভারিতে এলবি ডব্লু হয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এলেন তিনিও। ক্রিজে ৪ রানে অপরাজিত কোয়ার্টারের নায়ক অনুষ্টুপ।

দিনের বাকি সময়টা বিপক্ষ বোলারদের সামাল দিয়ে কী মহামঞ্চে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলা। কেএল রাহুল, মনীশ পান্ডে, করুণ নায়ার সমৃদ্ধ কর্ণাটকের ব্যাটিং বিভাগের সামনে পোড়েলদের জন্য ন্যূনতম পুঁজিটুকু জোগাড় করে না দিতে পারলে কিন্তু ঘরের মাঠেই রঞ্জি অভিযান শেষ হবে ঈশ্বরণদের।