ছট পুজোর উপোষ করা ব্যক্তিকে পাঁচটি ফল দান করলে সুফল পাবেন৷ বৃষ্টি না হলে প্রখর তাপে মাঠ শুকিয়ে যায়। ফলে ফসল হয় না। তাই এই পুজো করে সূর্যদেবকে তুষ্ট করা হয়৷ ফলে মাঠে ফসল ফলে। ছট পুজো করলে দুঃখ, অশান্তি কমে যায়৷ পাশাপাশি সুখ ও অর্থ লাভ হয়৷

এই পুজোর বিশেষত্ব হল বাড়ির যে কোনও সদস্য এই ব্রত করতে পারে৷ পুজোর সময় বাড়ি সব সময় পরিষ্কার রাখতে হয়৷ এই পুজোর বিশেষ প্রসাদ ঠেকুয়া৷ স্ত্রীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় ছট পুজোর দিন গুলিতে গেরুয়া সিঁদুর পড়েন৷

ছট পুজোর আরেক নাম রশ্মির পুজো৷ এই রশ্মি হল সূর্যের রশ্মি৷ অর্থাৎ এই পুজোর মধ্যে দিয়ে সূর্যদেবকে আরাধনা করা হয়৷ চারদিন ধরে এই পুজো হয়ে থাকে৷ এই পুজো কার্ত্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে অনুষ্ঠিত হয়৷ কোথাও আবার এই পুজো চৈত্র মাসেও হয়৷ ভাইফোঁটার পরের দিন থেকে পুজোর নিরামিষ খেতে হয়৷ পঞ্চমীর দিন নুন ছাড়া খাবার খেতে হয়৷

ষষ্ঠীতে নির্জলা উপোষ করতে হয়৷ পুজোর পর জল পান করে উপোষ ভঙ্গ করতে হয়৷ এই পুজোতে একটি ডালা সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গার ঘাটে৷ সেখানেই সূর্য দেবতাকে পুজো করা হয়ে থাকে৷ এই ডালাতে হলুদ গাছ, আমের পল্লব, নারকেল, কলার কাঁদি, বিভিন্ন ফল, ঠেকুয়া ও খাস্তা টিকরি থাকে৷

এই পুজোতে রীতি মেনে প্রথমে গঙ্গার ঘাটে বসে একমনে সূর্যদেবের আরাধনা করা হয়৷ তারপর নামতে হয় কোমর জলে৷ গঙ্গায় দাঁড়িয়ে পুজোর ডালা সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্পণ করে, ধূপ দেখিয়ে আরতি করা হয়৷ অবশেষে পরিবারের সকলের নামে একটা করে প্রদীপ ভাসিয়ে দেওয়া হয় গঙ্গায়৷

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।