কলকাতা: আর কয়েকদিন পর থেকেই শুরু হবে কলেজে ভর্তির মরশুম। কোভিড আবহে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা জগতে অচলাবস্থা চলছে। দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ স্কুল, কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয়। ভার্চুয়াল মাধ্যম গুলি হয়ে উঠেছে পড়াশুনার একমাত্র উপায়। এই পরিস্থিতিতে যেসব ছাত্রছাত্রীরা এই বছর দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দেবেন তাদের দিশাহীন অবস্থা। কোন বিষয় নিয়ে পড়াশুনো করলে ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে ও কর্মসংস্থানে সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে সেই বিষয়ে তারা যথেষ্ট দ্বিধায়। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ২৪x৭ আজ এমন একটি বিষয়ের কথা তুলে ধরবে যা নিয়ে পড়াশুনো করলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অনেক সুযোগ সুবিধা আছে। জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন বা সাংবাদিকতা ও গণ জ্ঞাপন।

জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন নিয়ে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স করা যায়। এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কোর্স গুলি অনেক সাহায্য করে। জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পড়াশুনা করলে কোন কোন ক্ষেত্রে চাকরির সুবিধা আছে আসুন দেখে নিই।

শিক্ষকতা: যাঁরা ৫৫% নম্বর জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তারা ইউজিসি পরিচালিত নেট পরীক্ষা দিতে পারেন। নেট পরীক্ষা পাশ করলে আপনি ভারতের যে কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

রিপোর্টিং: মিডিয়া বা সংবাদ মাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়। জার্নালিজম ও মাস
কমিউনিকেশন নিয়ে পড়লে আপনার কাছে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকছে। খবর সংগ্রহের জন্যে সাংবাদিকদের নানা রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, আপনি যদি মানসিক ভাবে এর জন্য প্রস্তুত হন আর যদি থাকে অজানাকে জানার নেশা। তবে সাংবাদিকতা আপনার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পেশা।

কনটেন্ট রাইটার: এই পেশাতে ইংরিজি, বাংলা ও জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন বিষয়ের ডিগ্রিধারী দের বিপুল চাহিদা। সুযোগও অনেক। এই পেশাতে বিভিন্ন নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আপনাকে সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগিয়ে আপনাদের লিখতে হবে।

অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি: যেহেতু অ্যাডভারটাইজিং বিষয়টি জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন কোর্সের অংশ , তাই অ্যাড এজেন্সি গুলো বিভিন্ন প্রয়োজনে জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন এর ছাত্রছাত্রীদের নিয়োগ করে থাকে। এই ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ রয়েছে।

পাবলিক রিলেশন: বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা জনগণের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা ও কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মতামত জানা, বা বেসরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে কোনো পণ্য নিয়ে জনমানসের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য জনসংযোগ আধিকারিক বা পাবলিক রিলেশন এক্সিকিউটিভ নিয়োগ করে থাকে। এই ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভাবে কাজের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

ফিল্ম পরিচালনা: জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন বিষয়ে ক্যামেরার বিভিন্ন কাজ, শুটিং করার বিভিন্ন উপায় শেখানো হয়। ছবি পরিচালনার ক্ষেত্রে যাঁদের আগ্রহ আছে, তারা নির্দ্বিধায় ফিল্ম পরিচালনার জগতে আসতে পারেন।

এছাড়াও রেডিও প্রোডাকশন, মিডিয়া প্ল্যানার, ইভেন্ট ম্যানেজার ইত্যাদি নানা জগতে কাজের অনেক সুযোগ থাকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.