সুভীক কুন্ডু, কলকাতা ২৪x৭: হিরো থেকে জিরো! নায়ক থেকে খলনায়ক! বিশ্বমঞ্চে এই নিয়ে দু’বার৷

ইডেন টু জয়পুর! স্টোকসের ক্ষেত্রে ছবিটা পাল্টায় না৷ শেষ ওভারে, বল হাতে পড়লে কোথাও যেন স্নায়ু কেঁপে যায় স্টোকসের৷

ধুঁয়াধার ব্যাটসম্যান, দুর্দান্ত ফিল্ডার৷ ব্রিটিশ অল-রাউন্ডারের এই গুণ নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ার কোনও সমর্থকই প্রশ্ন তোলার সাহস দেখাবেন না৷ কিন্তু শেষ ওভার এলেই বল হাতে কোন যাদুবলে তিনিই গুপি বাঘা সিরিজের ব্রহ্মানন্দ আচার্য মশাইয়ে পোষ মানা বিক্রম হয়ে যান কে জানে? শেষ ওভার মানেই স্টোকস যেন দর্শক৷ লাইন-লেন্থ সব ভুলে তখন বেবাক দর্শকের ভূমিকায় বেন! থ্রিলার ম্যাচের শেষ ওভার মানেই, স্টোকস যেন ব্যাটসম্যানের পোষ মানা চাবি দেওয়া পুতুল৷

বিশ্বাস না হলে মস্তিষ্কের চাকা ঘুরিয়ে দেখুন৷ সালটা ২০১৬৷ মঞ্চ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল৷ ইডেনে ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার ম্যাচ৷ ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ১৫৬ রানের টার্গেট তুলতে গিয়ে শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ১৯ রান৷ ৬ উইকেট হারিয়ে বসা ক্যারিবিয়ানের কাছে খাতায় কলমে যা সেই মুহূর্তে সত্যিই ছিল কঠিন টার্গেট৷

স্টোকসের শেষ ওভারে সেই টার্গেটই অনয়াসে তুলে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্রাথওয়েট৷ সৌজন্যে ‘ভিলেন’ স্টোকস৷ সেদিন শেষ ওভার হাত ঘোরাতে এসে টানা চার বলে চার ছক্কা হজম করে বিশ্বকাপটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেসিংরুমে পার্সেল করে দিয়েছিলেন স্টোকস৷ ২ বল বাকি থাকতেই চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতে ইডেনে ইতিহাস লিখেছিলেন ব্রাথওয়েট৷ মাঠে কান্না ভেজা চোখে আচার্য মশাইয়ে পোষ মানা বিক্রম হয়েই স্বম্ভিত থেকে গিয়েছিলেন স্টোকস!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ওভারে স্টোকসের চার ছক্কা হজম-

৩ এপ্রিল ২০১৬ থেকে জাম্প কাটে ১১ এপ্রিল ২০১৯৷ মধ্যরাতে ফের একবার স্বম্ভিত দর্শক স্টোকস৷ ফের একবার ভিলেন তারকা অল-রাউন্ডার৷ এবার আইপিএলের শেষ ওভার, ছক্কা এবং যত রহস্য স্টোকসে!

১৫২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পরপর উইকেট হারিয়ে চেন্নাই যখন ডুবছে, ছবিটা টাইটানিক হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেন ধোনি-রায়ডু৷ দুজনের দুটি হাফসেঞ্চুরির লড়াইয়ে ম্যাচ টিকে ছিল চেন্নাই৷ শেষ ওভারে ধোনিদের দরকার ছিল ১৮ রান৷ ভরসা করে স্টোকসের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন রাহানে৷

তখনই কপাল চাপড়ে জয়পুরে গ্যালারিতে চাপা একটা উফ! বেড়িয়েছিল৷ পুরনো ছবিটাই ভাবাচ্ছিল সকলকে৷ সেই স্টোকস, সেই শেষ ওভার৷ তবে কি স্টোকসের ভিলেন হওয়ার সেই রাত ফিরছে জয়পুরে! বলতে বলতেই রক্তচাপ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেয় শেষ ওভারের প্রথম বলে জাদেজার ছয়৷ মাটিতে শুয়ে হামাগুড়ি দিয়েই ছয় মেরে দেন জাড্ডু৷

জাদেজার সেই শুয়ে পড়ে ছয়-

ওভারের তিন নম্বর বলটায় পারফেক্ট ইয়র্কারে ধোনির স্টাম্প মাটিতে শুইয়ে ফেলে আশঙ্কায় মাটি চাপা দিয়ে নায়ক হওয়ায় এগিয়ে যান স্টোকস৷ কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি৷ শেষ বলে তিন রান বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমে স্যান্টনারকে ছয় রান দিয়ে বসেন স্টোকস৷ রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার ম্যাচের শেষ বলে ছয় হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই৷

চাপ কাকে বলে, সেটাও বোঝা গেল শেষ ওভারে৷ ওভারে একটি নো একটি ওয়াইড৷ সঙ্গে ফ্রি-হিটে দুটি রান খরচ করেন বেন৷ অন্য একটি ওয়েস্ট হাইট ফুলটসকে অবশ্য নো জানিয়ে পরে অস্বীকার করেন আম্পায়ার৷ নইলে ওভারের চতুর্থ বল নো ডাকলে, পরের ফ্রি-হিটেই গেম খতমের সুযোগ ছিল৷ অথচ ম্যাচে স্পাইডারম্যান স্বরূপ লাফিয়ে অনবদ্য এক ক্যাচে কেদারকে যিনি ফিরিয়েছিলেন, তার নামও বেন স্টোকস৷ সেই দৃঢ় চরিত্রের ইস্পাত কঠিন ক্রিকেটারই কোন রহস্য টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষ ওভারে বারবার এমন চাবি দেওয়া বোলার হয়ে যান, কে জানে! এই রহস্য বোধহয় সমাধান করতে পারেন একমাত্র স্টোকসের স্বদেশীয়ই৷ তিনি, স্বয়ং শার্লক৷

 চেন্নাইয়ে ম্যাচ জয়, হতাশ স্টোকস-