লিডস: অস্ট্রেলিয়ার মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিলেন বেন স্টোকস৷ হেডিংলেতে নিশ্চিত হারা ম্যাচে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দিলেন ব্রিটিশ অল-রাউন্ডার৷ যদিও এক্ষেত্রে ভাগ্যের কিছুটা সাহায্য পেলেন তিনি৷ সঙ্গে আম্পায়ারের বদান্যতা এবং নাথন লায়নের ঐতিহাসিক ভুলও ইংল্যান্ডের হাতে উত্তেজক জয় তুলে দিতে সহায়তা করে৷

জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৫৯ রান৷ ইংল্যান্ড ৯ উইকেট হারায় ২৮৬ রানে৷ অর্থাৎ জিততে হলে শেষ উইকেটে আরও ৭৩ রান তুলতে হতো৷ জ্যাক লিচকে সঙ্গে নিয়ে অসাধ্য সাধন করেন স্টোকস৷ এগারো নম্বর ব্যাটসম্যানকে যথাসম্ভব আড়াল করে স্টোকস টি-২০’র ঢংয়ে ক্রিজে ঝড় তোলেন৷ শেষমেশ শেষ উইকেটের জুটিতে ৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে হতাশার অন্ধকারে ঠেলে দেন তিনি৷ ৭৬ রানের মধ্যে জ্যাক লিচের অবদান মাত্র ১ রানের৷ তবে ১৭ বল ক্রিজে কাটিয়ে তিনি স্টোকসকে মহানায়ক হয়ে উঠতে সাহায্য করেন৷

আরও পড়ুন: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সিন্ধুর

স্টোকস শেষমেশ ১১টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ২১৯ বলে ১৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন৷ ইংল্যান্ড শেষ ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৬২ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়৷ লিডসে ১ উইকেটের উত্তেজক জয়ে চলতি অ্যাসেজ সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড।

প্রথম ইনিংসের নিরিখে ১১২ রানে এগিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে ২৪৬ রানে৷ তৃতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান তুলেছিল৷ জো রুট ৭৫ ও বেন স্টোকস ২ রানে অপরাজিত ছিলেন৷ চতুর্থ দিনে খেলতে নেমে রুট ব্যক্তিগত ৭৭ রানের মাথায় আউট হন৷ বেয়ারস্টো ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন৷ বাটলার, ওকস, আর্চার ও ব্রডের অবদান যথাক্রমে ১, ১, ১৫ ও ০৷

আরও পড়ুন: ভালো পিচে টেস্ট ক্রিকেট কখনই বিরক্তিকর মনে হবে না: সচিন

ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডারে পর পর ধাক্কা দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার জয় যখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মনে হচ্ছে, ঠিক তখনই পালটা লড়াই শুরু করেন স্টোকস৷ ম্যাচ জিততে যখন ইংল্যান্ডের ১৭ রান দরকার, তখন কামিন্সের বলে স্টোকসের ক্যাচ ছাড়েন হ্যারিস৷ যখন ম্যাচ জয় থেকে ব্রিটিশরা মাত্র ২ রান দূরে, তখন অতি সহজ রান-আউট মিস করেন লায়ন৷ লায়নের ঠিক পরের বলেই নিশ্চিত এলবিডব্লু ছিলেন স্টোকস, তবে আম্পায়ার আঙুল তুলতে অস্বীকার করেন৷ টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার হাতে রিভিউ থাকলে স্টোকসের বাঁচা অসম্ভব ছিল৷ আম্পায়ারের বদান্যতা পেয়ে স্টোকস শেষমেশ লিডসে দলের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন৷ স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা হয়েছেন তিনি৷