স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: আর মাত্র দুটো দিন৷তারপরই কালীপুজো। রাজ্যের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বাঁকুড়াতেও চোখে পড়ছে পথ আটকে ‘চাঁদা তোলা’র ছবি। শুধু প্রত্যন্ত গ্রামীণ রাস্তাগুলিতে নয়। রাজ্য সড়কেও ছবিটা ঠিক একইরকম। তবে গ্রাম গঞ্জে যেখানে মোটর বাইক আরোহীদের ছাড় নেই, রাজ্য সড়কগুলিতে ছবিটা সেখানে ভিন্ন। এখানে ‘টার্গেট’ শুধু মাত্র যাত্রীবাহী বেসরকারি বাস ও পণ্যপরিবহনের লরি।

দুর্গা পুজায় এই জেলায় সেভাবে পথ আটকে চাঁদা আদায়ের ছবি ধরা না পড়লেও কয়েকদিন পরে কালীপুজার আগে সেই ছবিটাই দ্রুত বদলে যায়। চলে পথ আটকে বেপরোয়া চাঁদা আদায়। অভিযোগ, পুলিশে জানিয়েও লাভ হয় না ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া রুটের এক বাস কন্ডাকটরের কথায়, যাতায়াতের পথে পনের থেকে কুড়ি জায়গায় কালী পুজোর চাঁদা দিয়েছি। প্রত্যেক জায়গাতেই গাড়ি আটকে একশো টাকার রসিদ ধরিয়ে দিচ্ছে। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়৷

তাঁর অভিযোগ, পুলিশে জানিয়েও লাভ হয় না৷ প্রতিদিন এই রুটে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কেউ এই ঘটনার জেরে পরে কোন ঘটনা ঘটিয়ে দিলে তার দায় কে নেবে? পুলিশ তো প্রতিদিন আমাদের সাথে থেকে নিরাপত্তা দিতে পারবেনা। তার চেয়ে একশো টাকা করে চাঁদা দেওয়াটাই সহজ।

একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়ায়া আসা খড় ব্যবসায়ী হরেন মাহাতো। তিনি বলেন, এখান থেকে খড় নিয়ে গিয়ে বোকারোতে বিক্রি করি। প্রতিদিন এই পথে এখন প্রায় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। ওদের কথা মতো চাঁদা না দিলে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি আটকে রাখছে।

খাতড়ার এক জীবনবীমা এজেন্ট বলেন, কর্মসূত্রে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়। কালীপুজোর চাঁদা জেনেই বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাই বেশ কিছু দশ টাকার নোট সঙ্গে নিই। গত দশ দিনে এখনো পর্যন্ত প্রায় ছ’শো টাকা চাঁদা তিনি দিতে বাধ্য হয়েছি? এ বিষয়ে জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, পথ আটকে জোর করে চাঁদা আদায় বেআইনী। তবে এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে কোন জায়গা থেকে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ আসেনি।