কলকাতা: তিনি ভাঙবেন তবু মচকাবেন না। মাঠে দল খারাপ ফুটবল খেললেও সাংবাদিক সম্মেলনে একদিনের জন্যেও তিনি সেটা স্বীকার করতে নারাজ। আর রবিবাসরীয় ডার্বি হারের পর ঔদ্ধত্য ঝরে পড়ল লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজের গলায়। যা ছাপিয়ে গেল অতীতের সব রেকর্ডকে।

রবিবারের আগে কলকাতা ডার্বিতে তিনি ছিলেন অপরাজিত। গত আই লিগের দু’টি ম্যাচেই মোহনবাগানকে হারিয়ে জয় পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এদিন ধারেভারে কিবু ভিকুনার দলের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। অথচ ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কোচের গলায় অহংকার। আলের কথায়, ‘গত ১৪ বছরে ইস্টবেঙ্গল সবচেয়ে ভালো ফল করেছে তাঁর আমলেই।’ তিনি হয়তো ট্রেভর জেমস মর্গ্যান নামক ব্রিটিশ ভদ্রলোকের নাম শোনেননি। তাই তাঁকে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা হলেও আলেজান্দ্রো তাঁর মন্তব্যে অনড়।

দল প্রথমার্ধ জুড়ে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে বিপক্ষের কাছে। অথচ কোচ তা মানতে একেবারেই নারাজ। আলে বলছেন, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো ফুটবল খেলেছি। সুযোগও তৈরি হয়েছে অনেক। শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়েছে। পেনাল্টিও পেতে পারতাম।’ সবমিলিয়ে ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্টের পরও তিনি নাকি দলের অবস্থানে মোটেই চিন্তিত নন। সাফাই গেয়ে বলে গেলেন গত মরশুমেও টানা তিন ম্যাচ হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেম, এবারও দাঁড়াব।

আর কোচের এহেন আচরণে তিতিবিরক্ত লাল-হলুদ শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। পারলে এখনই কোচকে ‘বাই-বাই’ বলে দেন। কোচের পারফরম্যান্সে তাঁরা যে ভীষণ অখুশি তাও জানিয়ে দেন দেবব্রত বাবু। সাংবাদিক সম্মেলনে কোচের ঔদ্ধত্য প্রসঙ্গে আলের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘উনি ক্লাবের ইতিহাসটাই জানেন না। পারলে জেনে নিন।’ পাশাপাশি কয়েকজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সও কর্তাদের স্ক্যানারের নীচে। মঙ্গলবার বিনিয়োগকারী সংস্থার শীর্ষকর্তা সুব্রত নাগ আসছেন কলকাতায়। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে কিছু ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।

অন্যদিকে চোট পাওয়া এডমুন্ড লালরিনডিকাকে আপাতত এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হবে। রবিবার ম্যাচের পর তাঁকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করা হয়েছে তাঁর।