সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়। ১৯৪৮ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বহু লোকেরই ধারনা বিধান রায় ছিলেন রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী৷ কিন্তু তা নয় তিনি দায়িত্ব নিয়ে ১৪ বছর টানা রাজত্ব করলেও তাঁর আগে কয়েক মাসের জন্য অন্য একজন ছিলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷

ভারতের স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ৷ একেবারে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকেই প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ তিনি কয়েক মাস ওই পদে ছিলেন৷ তারপরে ১৯৪৮ সালের ২৩ জানুয়ারি বিধানচন্দ্র রায় মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিখ্যাত এই চিকিৎসক ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে নজির সৃষ্টি করেন। পরে কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেছিলেন তিনি৷ তবে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রীতিমতো কৌতুক প্রবণ ছিলেন। বেশ কিছু ঘটনায় এমন নিদর্শন পাওয়া যায়।

একসময় এলাহাবাদে ‘আনন্দ ভবনে’ বিধান রায় বসে আছেন দেশের বিশিষ্ট এক ঝাঁক নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে৷ সেখানে তখন উপস্থিত গান্ধীজী, সরোজিনী নাইড়ু, ডাঃ আনসারি প্রমুখ৷ সেদিন কিছুটা হালকা মেজাজে গল্প করছিলেন সকলে৷ তখন সরোজিনী নাইড়ু হঠাৎ ডাঃ রায়কে প্রশ্ন করে বসেন, তাঁর বয়স ইতিমধ্যে ৫০ হলেও আশ্চর্যভাবে এখনও তাঁর গালে সুন্দর টোল পড়ে৷ তা শুনে কৌতূক করতে ছাড়েন না ডাঃ রায়৷

সরোজিনী নাইডুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তা আপনার এত বয়স হয়ে গেলেও এই সব এখনও লক্ষ্য করেন বুঝি৷ বিধান রায়ের এমন মন্তব্যে কিছুটা হকচকিয়ে গিয়েছিলেন সরোজিনী৷ কিন্তু খোদ গান্ধীজীই হো হো করে হেসে ফেলেছিলেন সেদিন৷

আবার এক সময় সরোজিনী নাইডুর কন্যা পদ্মজা নাইডু হন রাজ্যপাল৷ তখন আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিধান রায়৷ সেই সময় তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে দেখতে এসেছেন পদ্মজা৷ তার পরের দিনই ছিল ডাঃ রায়ের আবার জন্মদিন৷ কিন্তু পদ্মজা নাইডু বিধান রায়কে স্বাস্থ্যের কারণে নিষেধ করেন তাঁর জন্মদিনে জনগণের সঙ্গে দেখা করতে ৷

তখন বিধান রায় যুক্তি দেখান, তিনি নিজে যেখানে ডাক্তার সেখানে এই ব্যাপারে তাঁর নিজের মতেই চলা উচিত ৷ তখন পদ্মজা নাইডু হেসে জানতে চেয়েছিলেন , আদৌ কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের গভর্নরের আদেশ অমান্য করতে পারেন কি না? এই কথা শুনে অবশ্য হেসে ফেলেন ডাঃ রায় ৷ আর তর্কে না গিয়ে তা মেনে নিয়ে সেদিন বলেছিলেন, রাজ্যপালের আদেশ যখন এবার তাহলে তো মানতেই হচ্ছে৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV