লাহোর: টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। একাধিকবার তাঁর বিষাক্ত স্পিনে বিপক্ষকে মাটি ধরিয়েছেন ডানহাতি লেগ-স্পিনার, অথচ কেবলমাত্র হিন্দু হওয়ার তাঁর ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্সের জন্য কখনও সতীর্থদের বাড়তি প্রশংসা পাননি দানিশ কানেরিয়া। পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শোয়েব আখতার।

এখানেই শেষ নয়। হিন্দু হওয়ার কারণে দলের বাকি সতীর্থদের সঙ্গে খাবার টেবিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার বিষয়েও কানেরিয়ার উপর ছিল নিষেধাজ্ঞা। দলের কিছু কিছু ক্রিকেটার কানেরিয়ার সঙ্গে একই টেবিলে খাবার খাওয়ার ব্যাপারেও তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তান ড্রেসিংরুমে ছিল প্রাদেশিকতার (করাচি, পঞ্জাব, পেশয়ার) বিভাজন। কানেরিয়ার পাশে দাঁড়ানো ছাড়াও আখতারকে লড়াই করতে হয়েছে এই বিভাজনের বিরুদ্ধেও।

দ্বিতীয় হিন্দু ক্রিকেটার হিসেবে পাকিস্তানের হয়ে ৬১ টেস্টে ২৬১টি উইকেট নেওয়া কানেরিয়ার সমর্থনে টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোয়েব জানিয়েছেন, ‘২০০৫ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই হিন্দু ক্রিকেটারই আমাদের ম্যাচ জিততে সাহায্য করেছিল। কানেরিয়াকে ছাড়া আমাদের ওই সিরিজ জয় সম্ভব হত না। কিন্তু কেউ সেভাবে কানেরিয়াকে তাঁর পারফরম্যান্সের জন্য বাহবা দেয়নি।’ রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসের এই বিস্ফোরক অভিযোগকে সমর্থনও করেছেন কানেরিয়াও।

পিটিআই’কে ফোনে কানেরিয়া জানান, ‘শোয়েব একজন কিংবদন্তি। তাঁর বোলিংয়ের মত তাঁর মন্তব্যগুলোও একইরকম ধারালো। আমি যখন জাতীয় দলের হয়ে খেলতাম তখন এবিষয়ে আমার মুখ খোলা নিষেধ ছিল। কিন্তু শোয়েব ভাই সবসময় আমার পাশে থেকেছে। এছাড়া ইনজি ভাই (ইনজামাম-উল-হক), মহম্মদ ইউসুফ, ইউনিস ভাই সবসময় আমায় সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছে।’ একইসঙ্গে জাতীয় দলের যে সকল সতীর্থরা তাঁর বিপক্ষে ছিল খুব শীঘ্রই তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনবেন বলে জানিয়েছেন কানেরিয়া। পাশাপাশি পাকিস্তানের হয়ে খেলার কারণে তিনি ভাগ্যবান এবং সম্মানিত, জানিয়েছেন অনিল দলপতের পর পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক সার্কিটে খেলা দ্বিতীয় হিন্দু ক্রিকেটার।

উল্লেখ্য, ২০০৯ ডারহামে এসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত হন কানেরিয়া। এরপর দোষী সাব্যস্ত কানেরিয়াকে আজীবন নির্বাসনে পাঠায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। নির্বাসনের বিরুদ্ধে আবেদন করলেও ২০১৩ কানেরিয়ার সেই আবেদন নাকচ হয়ে যায়। অবশেষে টানা কয়েকবছর অস্বীকার করার পর ২০১৮ স্পট ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করে নেন কানেরিয়া।