সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কয়েকদিন আগেই বেহালা সংলগ্ন জিঞ্জিরা বাজারের রাস্তার হাল হকিকত আমরা দেখিয়েছিলাম৷ আজ সেই বেহালা সংলগ্ন এলাকাতেই বাগপোতার নিমতলা এলাকায় রাস্তার খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হল সংবাদ মাধ্যমকে৷

বিগত পনের বছর ধরে এই এলাকার রাস্তার খুবই খারাপ অবস্থা৷ যে রাস্তার উপর দিয়ে স্কুলে যেতে হয় বাচ্চাদের৷ হাসপাতাল রয়েছে পাশেই৷ রুগীকেও আনতে হয় এই পথেই৷ প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি মিলেছে৷ মেলেনি শুধু ভাল রাস্তা৷

নিমতলা এলাকাটি শাসকদল তৃণমুলের৷ তবে সূত্র মারফৎ খবর রাস্তার এই করুণ অবস্থার বড় কারণের মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠি দন্দও৷ পঞ্চায়েত প্রধান প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান রাস্তা হবে৷ কিন্তু তা ভবিষ্যত কালটাই বর্তমান হয়ে দাঁড়িয়েছে এই এলাকায়৷ জানা গিয়েছে দু’কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই রাস্তার জন্য কিন্তু আজও তৈরি হয়নি রাস্তা৷ রাস্তার শুরুতেই সাইনবোর্ডও রয়েছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার৷ সেই সাইনবোর্ডে লেখাও রয়েছে রাস্তা তৈরি শুরু হওয়ার তারিখ ও শেষ হওয়ার তারিখ৷ অর্থাৎ ঠিকাদারের কাজের মেয়াদ ছিল ২০১৭এর নভেম্বরের তিরিশ তারিখ থেকে নভেম্বর ২০১৮এর ২৯ তারিখ পর্যন্ত৷ অর্থাৎ আর প্রায় একমাস বাকি সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কিন্তু রাস্তার এখনও একই হাল৷

এই খবর করতে গিয়েই নিমতলায় পৌঁছলে হামলা হয় সংবাদ মাধ্যমের উপর৷ এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন৷ হাঁটা চলা করা যায়না৷ গাড়ি নিয়ে যেতে আরও অসুবিধায় পড়তে হয়৷ এর মধ্যেই ক্যামেরার সামনেই ধরা পড়ল সেই ছবি৷ পড়ে গেলেন একজন৷ এরকমই দিনে কমকরে সাত আটটা গাড়ি পালটি খেয়ে যায় এই এলাকায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ একজন বললেন, “স্থানীয় এমএল এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন৷ ১৫ দিনে টেম্পোরারি ব্যবস্থা করা হবে বলা হয়েছে৷ কিন্তু কাজ হয়নি৷ আমরা রাস্তা সারানোর জন্য সাইন করেও জমা দিয়েছি৷ কিন্তু কাজ হয়নি৷

তাই আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি৷ হাত জোর করে ক্ষমা চাইছি আমরা সংবাদ মাধ্যমকে সিকিউরিটি দিতে পারিনি৷ এভাবে কতদিন আমরা বঞ্চনার শিকার হব? আমাদের সিকিউরিটি দেওয়ার কি কেউ নেই? ” জানা গিয়েছে যে সংবাদ মাধ্যমের উপর হামলা চালায় তার নাম আজাদ৷

কলাগাছিয়া থেকে ঠাকুরপুকুর অটো সার্ভিস রয়েছে এই এলাকার উপর দিয়েই৷ সেই অটো চালকরাও বলছেন “রাস্তা করলে সবার ভাল হয়৷” একজন বললেন “শাসকদল দুর্নীতি করছে৷” নিমতলা এলাকা৷ তৃণমূলের এলাকা৷ অথচ তৃণমূলের একটি দলের পক্ষ থেকে খবর পেয়েই ওই এলাকায় পৌঁছই আমরা৷ তবুও তৃণমূলের অন্য এক দল এসে সংবাদ মাধ্যমের উপর হামলা করে বলে বলে অভিযোগ৷ পনের বছর ধরে রাস্তা যে অবস্থা তাতে বছর পাঁচেক আগে একটু ইঁট বালি পড়েছিল৷

কিন্তু ফি বছর বর্ষায় যে ভাবে জল জমে ও কাদা জমে তাতে রাস্তার শুধু মাপ টাই রয়েছে৷ আর রয়েছে গোড়ালি ডোবা পিচ্ছিল কাদা৷ আর জায়গায় জায়গায় জমা জল৷ রাস্তা কবে ঠিক হবে কেউ কি জানেন? প্রশ্ন এলাকার মানুষের৷ তবে সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনা৷ শুধু যেটা মেলে তা একটাই শব্দ৷ ‘হবে৷’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।