দেবযানী সরকার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিতর্কিত টুইটে দেশজুড়ে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এর জেরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। জবরদস্তি মেনে নিতে নারাজ বাঙালিরা। সংঘ পরিবার ও বিজেপির এই অবস্থানকেই কটাক্ষ করে জ্বলজ্বল করবে দুর্গা পূজার ‘গ্ল্যাডলি বাঙালি’ প্যাণ্ডেল।

বাঙালির প্রাণের শারদোৎসব। তাই এবার সমগ্র বাঙালি জাতিকেই তাদের পুজো উৎসর্গ করছে বেহালা দেবদারু ফটক সার্বজনীন। বর্ণময় বাঙালির জীবনে বিচিত্র সব কাহিনি তুলে ধরা হচ্ছে তাদের মণ্ডপে। থিম ‘গ্ল্যাডলি বাঙালি’।

শুধু গৌরবের কাহিনি নয়, বাঙালির আবেগ আর রসবোধে ঠাসা এই মণ্ডপে তাদের ভুল-ত্রুটিগুলোও চোখে পড়বে। সেইরকমই সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। কার্টুনের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনাকে মণ্ডপসজ্জায় মেলে ধরছেন শিল্পী দম্পতি সুমি ও শুভদীপ মজুমদার।

বেহালা দেবদারু ফটকের থিম ‘গ্ল্যাডলি বাঙালি’। মণ্ডপের দেওয়াল জুড়ে সাজানো থাকবে বাঙালির নিত্যদিনের রোজনামচা। যেমন, পাড়ার দোকানে চায়ের আড্ডা, দাম নিয়ে দর কষাকষি, পরনিন্দা পরচর্চা, আলসেমি, স্বামীকে বউয়ের শাসন, ট্যাক্সি রিফিউজাল এমনকি বুদ্ধিজীবীদের কচকচানি।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাঙালির চিরাচরিত সমস্ত অভ্যাস-অনভ্যাসই মণ্ডপসজ্জার উপকরণ হচ্ছে। আর প্যান্ডেলে ঢোকার পরই বাঙালি দর্শনার্থীদের মনে হবে তাঁরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন।

শিল্পী শুভদীপ জানিয়েছেন, বাঙালিদের ভালো-মন্দ, দোষ-গুণের মধ্যে এখানে একটা ব্যালান্স করার চেষ্টা করেছি। দেবদারু ফটক পুজো কমিটির প্রতিমা একদম সাবেকি ধাঁচেই গড়া হচ্ছে।

তিনি জানিয়েছে, “বাঙালির মতো প্রাণবন্ত জাতি গোটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে নেই। নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি, মান-অভিমান ভুলে আমরা বাঙালিরাই একসঙ্গে দুর্গাপুজোয় মেতে উঠতে পারি। তাই এবার আমরা বাঙালিরা নিজেদের ঢাক নিজেরাই পেটাব।”

আর এই নিজের কথা বলতে চাওয়ার উদ্যোগেই যেন প্রতিবাদের দিকটা উঠে আসছে। দেশজুড়ে হিন্দিকে জোর করে ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ সরকার। তার সামনে দাঁড়িয়ে বাঙালির ঢাক পেটাতে মরিয়া দেবদারু ফটকের পুজো কমিটি।

কার্টুনের মধ্যে দিয়ে বাঙালিত্ব ফোটানোর অভিনব চেষ্টার কথা ইতিমধ্যেই ছড়াতে শুরু করেছে। অপেক্ষা কয়েকটা দিনের। আলো ঝলমলে দেবদারু ফটকের মণ্ডপে গিয়ে সেসব দেখার। উদ্যোক্তারা বলছেন, “আমাদের পুজো মণ্ডপে এলে মানুষ প্রাণ খুলে হাসবে। কথা দিচ্ছি। “

হাসো বাঙালি হাসো…