ঢাকা: রবিবারেই মুক্তি পাচ্ছেন ! শুরু হয়ে গিয়েছে বিস্তর আলোচনা৷ আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দি তিনি এবং অসুস্থ৷ তারপরেও তাঁকে নিয়েই বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক শিবির সহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চর্চা প্রবল৷ জাতীয় নির্বাচনের আগে মুক্তি পেয়ে ভোটে লড়বেন কিনা সেটা লক্ষ টাকার প্রশ্ন৷ আপাতত সেই উত্তর না মিললেও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু বইয়ের পাতায় মুক্তি পাবেন৷

ঢাকায় উন্মোচিত হবে ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ বই৷ সেই উপলক্ষে চলছে আলোচনা৷ ইংরাজিতে লেখা ৭০০ পাতার এই বইয়ে ধরা রয়েছে গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, একনায়ক বিরোধী সংগ্রাম, পূর্বতন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে বেগম জিয়ার কারাবাস পর্ব৷ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্ত্রীর জীবনের এই সব ঘটনার অনেক অজানা কথা জানা যাবে বইয়ে। এই বইটির লেখক সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ৷

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’। এই ছবি মুক্তির পরেই দর্শক মহলে সাড়ে ফেলে দিয়েছে৷ ডকুফিচার আঙ্গিকে তৈরি ছবিতে নিজের জীবনের কথা নিজেই বলেছেন শেখ হাসিনা৷ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন হলে ছবিটি নিয়ে তৈরি হয়েছে উন্মাদনা৷ এই অবস্থার মাঝেই উন্মোচিত হতে চলেছে হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বিএনপি সুপ্রিমো খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে বই৷

বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি

১৯৮১ সালের ৩০ মে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে৷ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানকে খুনের পরে জিয়াউর রহমান ধরেছিলেন দেশের হাল৷ সেই সময় খালেদা জিয়া নিতান্তই গৃহবধূ৷ তবে স্বামীকে খুনের পরেই তাঁকে ঘিরে বিএনপি রাজনীতি আবর্তিত হতে শুরু করে৷ ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন৷ এবং অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে যান৷ রাজনৈতিক আন্দোলনের দিনে তখন খালেদা জিয়ার মূল প্রতিপক্ষ তৎকালীন সেনা শাসক হুসেইন মহম্মদ এরশাদ৷ সেই আন্দোলন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল৷

এরশাদ সরকার বিরুদ্ধে টানা আট বছরের সংগ্রাম শেষে ১৯৯১ সালে হয় সাধারণ নির্বাচন৷ তারপরেই নজির৷ মুসলিম দুনিয়ার দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের কুর্সিতে বসেন৷ সেই শুরু এর পর থেকে ২০০৬ সাল পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার জেল জীবন বইটির বড় অংশজুড়ে রয়েছে।

লেখক মাহফুজউল্লাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বইটি লিখতে হয়েছে৷ ফলে এতে বাদ পড়েছে ২০০৭ সালের পরবর্তী সময়ের কথা৷ লেখা সম্ভব হয়নি তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, গুলশনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন মাস অবস্থান এবং সাম্প্রতিক জেলজীবনের কথা৷ র আগে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। ওই বইটির নাম ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ : আ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি’।