স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম: ”আমি ব্রাহ্মণ বাড়ির ছেলে। স্নান করে তুলসী মুখে দিয়ে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করে বাড়ি থেকে বেরোই। আমার কাছে বিরোধীদের শিখতে হবে। কিন্তু এটা আমি মন্ত্রী হিসেবে বা বিধায়ক হিসেবে করিনি। আমার ধর্মের জায়গা আমার আস্থার জায়গা আমার মন্দির। গৌরনিতাই প্রেমানন্দে হরি হরি বল।”

বুধবার বছরের শুরুতে মন্ত্রী শুভেন্দুর মুখে এই হরিনাম শোনার পরই শুরু হল হাততালির ঝড়। ১ জানুয়ারি উপলক্ষে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসের এক উদযাপন অনুষ্ঠানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের গোকুলনগরে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তাঁর বক্তব্যের মাঝে হরি নাম শুনে হাততালিতে ফেটে পড়লো গোটা অনুষ্ঠান চত্বর।

বছরের প্রথম দিন ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ২৩ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমত জেলার প্রতিটি ব্লকে ব্লকে পালিত হয় দলের প্রতিষ্ঠা দিবস। আর এই প্রতিষ্ঠা দিবসে নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে দলের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকালে কাঁথি পুরসভার ৮নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলন করেন। এবং শহীদ বেদীতে মালাদান করেন। এরপর জেলার একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন – আরও একদিন বারাসাত-বসিরহাটে বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট

প্রতিষ্ঠা দিবসের মাঝে নিজের বিধানসভা এলাকা নন্দীগ্রামে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের নিজের মুখ থেকে অভাব-অভিযোগের কথাও শোনেন তিনি। বুধবার মন্ত্রী পুরোনো রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, “২০০৪ সালে আমি লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে লড়ে ছিলাম। এর আগে ২০০৩ সালে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেলিপ্যাড ময়দানে সভা করতে এসেছিলেন। সেই তিন নেত্রীকে এককাপ চা পর্যন্ত দিতে দেয়নি। হলদিয়ার সব দোকানে তালা লাগিয়ে ছিল ওরা। জল পর্যন্ত খেতে দেয়নি সব নলকূপে তালা লাগিয়ে ছিল। সেই দিন নেত্রী ফিরে যাওয়ার সময় নন্দকুমার রোটারিতে আমায় বলেছিলেন লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে তোমায় লড়তে হবে। তাঁর কথা মেনে আমি লড়ে ছিলাম। এবং হেরেও গিয়েছিলাম। সে সময় লক্ষণ শেঠ বলেছিল কাঁথির ছেলে হারলেও পালাবে জিতলেও পালাবে। কিন্তু আমি হেরে গিয়েও পালিয়ে যাইনি।”

তিন মন্ত্রী সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তথা নদীয়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ নস্করকে নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, “নদীয়ার কে একটা লোক তাকে ছয় মাস কোথাও দেখা যায়? তাহলে আপনারা ঘরের লোককে ছেড়ে নদীয়া লোককে ভোট দিয়েচ্ছিলেন কেন? আমি আপনাদের বন্ধু হিতৈষী রয়েছি। আমি এমন কোনও খারাপ করবো না যাতে, নন্দীগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”