মেলবোর্ন: ক্রিকেটীয় নিলামের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি শ্যেন কিথ ওয়ার্নের ‘ব্যাগি গ্রিন’। দাবানলে ক্ষতিগ্রস্থ অস্ট্রেলিয়ার সাহায্যার্থে সম্প্রতি নিজের সাধের ব্যাগি গ্রিনকে নিলামে তুলেছিলেন স্পিনের জাদুকর। নিলামে ওয়ার্নের সেই ব্যাগি গ্রিন দাম পেল ৫২০,৫০০ মার্কিন ডলার। যা ছাপিয়ে গেল ২০০৩ সালে নিলামে ওঠা কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিনের মূল্যকেও।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ অংশে বিধ্বংসী দাবানলের জেরে ঘরছাড়া হাজার-হাজার সাধারণ মানুষ, বিপন্ন মানবজীবন। দাবানলের কড়াল গ্রাস কেড়ে নিয়েছে ৫০কোটি বন্যপ্রাণ। এমন জাতীয় বিপর্যয়ের মুহূর্তে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে একে একে এগিয়ে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা। তালিকায় যেমন রয়েছেন ক্রিকেট তারকা ক্রিস লিন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তেমনই রয়েছেন বিশ্বের এক নম্বর মহিলা টেনিস তারকা অ্যাশলে বার্টি থেকে টেনিস তারকা সামান্থা স্তোসুর। কিছুটা দেরিতে হলেও দাবানলে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যার্থে মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেন কিংবদন্তি স্পিনার শ্যেন ওয়ার্ন।

সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের অন্তিম টেস্ট চলাকালীনই নিজের প্রিয় ব্যাগি গ্রিনকে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তৃতীয় টেস্টের চতুর্থদিন ম্যাচ চলাকালীনই এই মহৎ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন শ্যেন। জানিয়েছিলেন নিলামে অর্জিত সমস্ত অর্থ দান করবেন দাবানল তহবিলে। ওয়ার্নের ঘোষণামতো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু হয় নিলাম পর্ব। একটি টুইটার পোস্টে ওয়ার্ন সেদিন লিখেছিলেন, ‘মানবজীবন বিপন্ন, পরিবার ঘরছাড়া, ৫০ কোটি বন্যপ্রাণ নিশ্চিহ্ন, অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা সাঙ্ঘাতিক।’ ওয়ার্ন আরও যোগ করে জানান, ‘এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আমি আমার প্রিয় ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটি (৩৫০) কে নিলামে তুলছি। যেটা টেস্ট কেরিয়ারের গোটা সময়টা জুড়ে আমার নিত্যসঙ্গী ছিল। আশা রাখি আমার ব্যাগি গ্রিন কঠিন সময়ে মানুষের প্রয়োজনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে।’

একইসঙ্গে যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিলামে উঠেছে তাঁর ব্যাগি গ্রিন, সেই ওয়েবসাইটের লিংকও উল্লেখ করে দিয়েছিলেন ওয়ার্ন। কেরিয়ারে ১৪৫টি টেস্টে যে ব্যাগি গ্রিন পরে ৭০৮ উইকেটের মালিক হয়েছিলেন, দেশের কঠিন সময়ে সেই ব্যাগি গ্রিনকে নিলামে তুলতে কার্পণ্য করেননি ওয়ার্ন। উল্লেখ্য, নিলাম শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই প্রাক্তন ইংরেজ ক্রিকেট অধিনায়ক মাইকেল ভন ওয়ার্নের সেই ব্যাগি গ্রিনের জন্য ২৫ হাজার মার্কিন ডলার প্রস্তাব দেন। যদিও তা কিছু সময়ের মধ্যেই ছাপিয়ে যায়।

অবশেষে দিন তিনেক ধরে চলা নিলামে ওয়ার্নের ব্যাগি গ্রিন প্রাপ্ত অর্থের নিরিখে ছাপিয়ে গেল স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিনকেও। ২০০৩ নিলামে ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিনের প্রাপ্ত অর্থ ছিল ৪২৫,০০০ মার্কিন ডলার। শুধু ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিনের রেকর্ড ভাঙাই নয়, নিলামে প্রাপ্ত অর্থের নিরিখে স্পিনের জাদুকরের ব্যাগি গ্রিন ভেঙে দিয়েছে আরও বেশ কিছু রেকর্ড। যার মধ্যে রয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচ জেতানো মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাট, ৬ ছক্কা হাঁকানো ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্সের ব্যাটকেও।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.